বাংলাদেশে আবারও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও পরিবহন খাতে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের জারি করা নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম একসঙ্গে বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত দামে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেরোসিনের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। আজ থেকেই এই নতুন মূল্য দেশের সকল ফিলিং স্টেশনে কার্যকর হয়েছে।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও চাহিদার অস্থিরতার কারণে প্রায়ই দাম সমন্বয় করতে হয়। বিশেষ করে বৈশ্বিক রাজনৈতিক উত্তেজনা, ডলার বাজারের ওঠানামা এবং আমদানি ব্যয়ের পরিবর্তনের কারণে দেশের ভেতরে জ্বালানি তেলের দাম প্রভাবিত হচ্ছে।
এদিকে, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে যদি পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আবারও মূল্য সমন্বয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে পরিবহন খাতে। বাস, ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহনের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবহন ভাড়া এবং নিত্যপণ্যের দামে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক পরিবহন মালিক সমিতি ভাড়া পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।
সাধারণ মানুষ বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে প্রতিটি পণ্যের উপর তার প্রভাব পড়ে, ফলে বাজারে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েন।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে নতুন দামে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে।