ছাত্রী নির্যাতনের অভিযোগে আবাসিক মহিলা মাদ্রাসা নিয়ে নতুন বিতর্ক
আইয়ুব আলী। রংপুর
দেশের বিভিন্ন স্থানে আবাসিক মহিলা মাদ্রাসায় ছাত্রী নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি আলোচিত ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিভাবক, সচেতন নাগরিক ও মানবাধিকারকর্মীরা এসব প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে অভিযোগ করা হয়েছে, দেশের কয়েকটি আবাসিক মহিলা মাদ্রাসায় অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। কিছু ঘটনায় শিক্ষার্থীদের গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্যও সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।
বিশেষ করে কুমিল্লার একটি আবাসিক মহিলা মাদ্রাসায় এক ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে রাজশাহী ও নরসিংদির পৃথক দুটি ঘটনায় শিশু শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের অভিযোগ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, আবাসিক পরিবেশে থাকা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে কিছু প্রতিষ্ঠান।
এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্টদের অনেকেই মনে করছেন, আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় আরও কঠোর নীতিমালা প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে অল্পবয়সী মেয়েরা অবস্থান করে, সেখানে নিয়মিত মনিটরিং, শিক্ষক-শিক্ষিকার যাচাই এবং সিসিটিভি পর্যবেক্ষণের মতো ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা দরকার বলে মত দিয়েছেন অনেকে।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও কোনো প্রতিষ্ঠান আইনের ঊর্ধ্বে নয়। শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য সমান আইন প্রযোজ্য হওয়া উচিত। অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি বলেও তারা মনে করেন।
অভিভাবকদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্তানকে আবাসিক প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানোর আগে সেই প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ, পরিচালনা পদ্ধতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, আবাসিক মহিলা মাদ্রাসাগুলো নিয়ে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।