জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার ও গণভোট নিয়ে জাতীয় কনভেনশন ২০২৬ অনুষ্ঠিত
আইয়ুব আলী। রংপুর
রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট-এর মুক্তিযোদ্ধা হলে আজ (৩ মে ২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়েছে জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার ও গণভোট বিষয়ক একটি দিনব্যাপী জাতীয় কনভেনশন। সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এই আয়োজনে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, অর্থনীতিবিদ, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এই কনভেনশনের আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এর সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি। আয়োজকদের মতে, দেশের বর্তমান বাস্তবতায় অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, জ্বালানি নিরাপত্তা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার বিষয়ে সমন্বিত আলোচনা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
উদ্বোধনী সেশনে সভাপতিত্ব করেন আখতার হোসেন (এমপি)। স্বাগত বক্তব্যে সারোয়ার তুষার বলেন, দেশের উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। প্যানেল আলোচনায় বদিউল আলম মজুমদার সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
প্রথম সেশনে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে মতামত দেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থনীতিবিদ ফাহমিদা খাতুন বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেসরকারি খাতকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দ্বিতীয় সেশনে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়। সেশনটির সভাপতিত্ব করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এম শামসুল আলম বলেন, আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর জোর দিতে হবে। একইসঙ্গে খান জহিরুল ইসলাম দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। বক্তারা সতর্ক করেন, কার্যকর নীতি গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
তৃতীয় সেশনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। সেশনটি পরিচালনা করেন আসিফ মাহমুদ। মানবাধিকার আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, আইনের শাসন নিশ্চিত না হলে নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত রাখা সম্ভব নয়। আলোচকরা গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সমাপনী সেশনে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণে গণভোটের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নাহিদ ইসলাম। বক্তারা বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গণভোট একটি কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে। পাশাপাশি রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
দিনব্যাপী এই কনভেনশনে দেশের গুরুত্বপূর্ণ চারটি খাত—অর্থনীতি, জ্বালানি, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র—নিয়ে গভীর আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, এসব আলোচনা ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে সহায়ক হবে এবং দেশের সংস্কার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে।