পিরোজপুরের বেহাল সড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
আইয়ুব আলী। রংপুর
পিরোজপুর জেলার দীর্ঘদিনের অবহেলিত ও বেহাল সড়কগুলো দ্রুত মেরামত করে যান চলাচলের উপযোগী করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৫ মে ২০২৬) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন।
বৈঠকে পিরোজপুর জেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED) এর আওতাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, বিদ্যমান সমস্যা এবং করণীয় নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং কোথায় কোথায় কাজ ধীরগতিতে চলছে তা চিহ্নিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে বলেন, দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সচল ও নির্বিঘ্ন রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, যেসব সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে জনগণের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেগুলোকে দ্রুত সংস্কারের আওতায় আনতে হবে।
পিরোজপুর জেলার সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন না হলে স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে জনগণের দুর্ভোগ কমানোর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেন তিনি।
বৈঠকে আলোচনার সময় উঠে আসে, বিগত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। কয়েকটি প্রকল্পে তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের বিষয়টি আলোচনায় আসে।
এ প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রতিটি প্রকল্পে সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং যেকোনো ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী, পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দুলাল এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পিরোজপুর জেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।