হিরোশিমা পিস পার্কে ডা. শফিকুর রহমানের শ্রদ্ধা
আইয়ুব আলী।
জাপানের হিরোশিমা শহরে অবস্থিত Hiroshima Peace Memorial Park ও Hiroshima Peace Memorial Museum পরিদর্শন করেছেন মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, এমপি। বুধবার (৬ মে ২০২৬) স্থানীয় সময় তিনি এই ঐতিহাসিক স্থানগুলো ঘুরে দেখেন এবং বিশ্বমানবতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রদান করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সংঘটিত ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের বিভিন্ন নিদর্শন প্রত্যক্ষ করেন। বিশেষ করে ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট সংঘটিত Atomic bombing of Hiroshima-এর স্মৃতি বহনকারী স্থাপনা ও দলিল তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। মিউজিয়ামে সংরক্ষিত ছবি, পোড়া সামগ্রী, এবং ভুক্তভোগীদের স্মৃতিচিহ্ন সেই সময়ের বিভীষিকাময় বাস্তবতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট সকালে যুক্তরাষ্ট্র ‘লিটল বয়’ নামের পারমাণবিক বোমা হিরোশিমায় নিক্ষেপ করে। এর তিন দিন পর, ৯ আগস্ট, নাগাসাকি শহরে ‘ফ্যাট ম্যান’ নামের আরেকটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষাধিক মানুষ নিহত হন এবং পরবর্তী সময়ে বিকিরণজনিত অসুস্থতায় আরও বহু মানুষের মৃত্যু ঘটে।
ডা. শফিকুর রহমান নিহতদের স্মরণে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং শান্তির বার্তা বহনকারী বিভিন্ন স্মৃতিস্তম্ভে নীরবে সময় কাটান। তিনি বলেন, হিরোশিমা ও নাগাসাকির ঘটনা মানবজাতির জন্য এক কঠিন শিক্ষা, যা আমাদেরকে যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে শিক্ষা নিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ বেছে নিতে উদ্বুদ্ধ করে।
পরিদর্শনের সময় তার সঙ্গে ছিলেন হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষক, গবেষণারত পিএইচডি শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য জনাব সাইফুল আলম খান মিলন, এমপি। এছাড়া সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান, এমপি।
বর্তমানে হিরোশিমা একটি আধুনিক নগরীতে পরিণত হলেও সেই মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতি এখনও বহন করে চলেছে। বিশেষ করে Atomic Bomb Dome ভবনটির ধ্বংসাবশেষ বিশ্ববাসীর কাছে পারমাণবিক যুদ্ধের ভয়াবহতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
পরিদর্শন শেষে ডা. শফিকুর রহমান বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি নিরাপদ পৃথিবী উপহার দিতে হলে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা জরুরি। তাঁর এই সফর বিশ্বশান্তি, সহমর্মিতা ও মানবিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।