বাউফলে খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করলেন এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ
আইয়ুব আলী । রংপুর
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় কৃষি, পরিবেশ ও স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে রাজনগর পালপাড়া বিলের খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ মে) উপজেলার ৭নং বগা ইউনিয়নের রাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খাল পুনঃখননের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য জননেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সালেহ আহমেদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, কৃষক, শিক্ষক, সুধীজন এবং এলাকার সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। খাল পুনঃখননের এ উদ্যোগকে এলাকাবাসী সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, দেশের কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় খাল, বিল ও জলাশয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন খাল ভরাট হয়ে যাওয়া এবং নাব্যতা হারানোর কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে, ফলে কৃষি উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তিনি বলেন, সরকার দেশের নদী-খাল পুনরুদ্ধারে ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে এবং সেই ধারাবাহিকতায় বাউফলেও বিভিন্ন খাল পুনঃখননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই খাল পুনঃখনন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। খাল পুনঃখননের ফলে এলাকার জলাবদ্ধতা দূর হবে, কৃষকরা সহজে সেচ সুবিধা পাবেন এবং বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালেহ আহমেদ বলেন, স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল রাজনগর পালপাড়া বিলের খালটি পুনঃখনন করা। খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষিজমিতে পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছিল এবং বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছিল। পুনঃখননের মাধ্যমে এলাকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খালটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা ও পলি জমার কারণে প্রায় মৃত অবস্থায় পরিণত হয়েছিল। এতে কৃষিকাজে ব্যাপক সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে বোরো ও আমন মৌসুমে সেচ ও পানি নিষ্কাশনে কৃষকদের অতিরিক্ত ভোগান্তি পোহাতে হতো। খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হারুন মিয়া বলেন, “অনেক বছর ধরে খালটি ভরাট হয়ে ছিল। পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। এখন খাল খনন হলে কৃষকরা অনেক উপকার পাবেন।”
আরেক কৃষক আব্দুল মালেক জানান, বর্ষাকালে পানি জমে থাকায় অনেক সময় ফসল নষ্ট হয়ে যেত। খাল পুনঃখননের ফলে দ্রুত পানি নামবে এবং কৃষিকাজ সহজ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এলাকাবাসীর মতে, শুধু কৃষি নয়, খাল পুনঃখননের ফলে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশও উপকৃত হবে। পাশাপাশি খালের পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিরা খাল পুনঃখনন কাজের প্রাথমিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের দ্রুত ও সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন।