বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার ডেরেক লোহের সৌজন্য সাক্ষাৎ
আইয়ুব আলী । রংপুর
রাজধানীর বসুন্ধরাস্থ কার্যালয়ে আজ সোমবার সকালে জাতীয় সংসদের মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর Dr. Shafiqur Rahman-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের মান্যবর হাইকমিশনার (নন-রেসিডেন্ট) Derek Loh।
বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, শিল্প ও বাণিজ্য খাতের উন্নয়ন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে গণভোট, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিয়েও উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেন।
সাক্ষাৎকালে সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার ডেরেক লোহ বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় একটি দেশ হিসেবে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এবং এ অগ্রযাত্রায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। বিশেষ করে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
আলোচনায় উভয় পক্ষই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সাক্ষাৎ শেষে সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার ডেরেক লোহ বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে সিঙ্গাপুর সফরের আমন্ত্রণ জানান। এ আমন্ত্রণকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সম্পর্ক জোরদার হওয়া অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত অর্থনীতির দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়লে বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য খাতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
এদিকে এ সৌজন্য সাক্ষাৎকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি, রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে সিঙ্গাপুরের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক প্রতিনিধির এ সাক্ষাৎ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা।