ঢাকসু-পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিপাক্ষিক সম্মেলন: শিক্ষা, প্রযুক্তি ও তরুণ নেতৃত্বে যৌথ সহযোগিতার নতুন দিগন্ত
আইয়ুব আলী । রংপুর
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম Peking University এবং Dhaka University Central Students' Union (ডাকসু)-এর মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে চীনের তরুণদের শিক্ষা, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), গবেষণা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিভিত্তিক যৌথ সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় ডাকসু প্রতিনিধি দল, পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ছাত্রনেতৃবৃন্দ এবং চীনা দূতাবাসের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় দুই দেশের তরুণদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক, জ্ঞান বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক নেতৃত্ব গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক সংযোগ বৃদ্ধি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে।
সভায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিশেষভাবে আলোচনায় স্থান পায়। প্রথমত, তরুণ প্রজন্ম কীভাবে নিজ নিজ দেশের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি, ইতিহাস ও জাতীয় চেতনাকে ধারণ ও বিকশিত করতে পারে তা নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, বিশ্বায়নের এই সময়ে নিজস্ব সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ ধরে রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরতে হবে।
দ্বিতীয়ত, পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হওয়ার অভিজ্ঞতা ও তাদের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির আধুনিক গবেষণা ব্যবস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা পদ্ধতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো বাংলাদেশি প্রতিনিধিদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তরুণদের নেতৃত্বগুণ, দেশপ্রেম, আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জনের বিভিন্ন উপায় নিয়ে মতবিনিময় হয়। বক্তারা মনে করেন, ভবিষ্যৎ বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে তরুণদের শুধু একাডেমিক শিক্ষাই নয়, প্রযুক্তি, যোগাযোগ দক্ষতা ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিও অর্জন করতে হবে।
চতুর্থত, হাজার বছরের চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে দুই দেশের তরুণদের যৌথ উদ্যোগ ও সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। উভয় পক্ষই তরুণদের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়, যৌথ গবেষণা এবং শিক্ষামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডাকসুর পক্ষ থেকে সম্মেলনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চশিক্ষায় স্কলারশিপ সুবিধা বৃদ্ধি, গবেষকদের জন্য গবেষণা সহযোগিতা সম্প্রসারণ, পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা সেন্টার স্থাপন এবং বাংলাদেশ ও চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একাডেমিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা।
এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), প্রযুক্তি উদ্ভাবন, বিজ্ঞান গবেষণা ও ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থায় দুই দেশের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়। ডাকসু নেতারা বলেন, এই ধরনের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাংলাদেশের তরুণদের নতুন জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করবে।
পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা ডাকসুর পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রস্তাবসমূহকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও চীনের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আরও বিস্তৃত সহযোগিতা, বন্ধুত্বপূর্ণ সমন্বয় এবং জ্ঞানভিত্তিক অংশীদারিত্ব গড়ে উঠবে।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতিভিত্তিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আগামী দিনের বিশ্ব নেতৃত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ ও চীনের তরুণদের এই যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতে দুই দেশের কূটনৈতিক ও একাডেমিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।