রামিসার ডিএনএ পরীক্ষায় মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য, দ্রুত বিচার দাবি অব্যাহত
আইয়ুব আলী, রংপুর
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মামলার প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানার সম্পৃক্ততার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত শনিবার সিআইডির ফরেনসিক ইউনিট ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ময়নাতদন্ত এবং ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন হস্তান্তর করে। প্রতিবেদনে শিশুটির মৃত্যুর আগে তার ওপর নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চার্জশিটের খসড়া প্রস্তুত হয়েছে এবং বর্তমানে কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এর আগে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন প্রধান আসামি সোহেল রানা। আদালতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে তদন্ত সূত্র জানিয়েছে।
গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠন দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে।
শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর আইন প্রয়োগ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। একই সঙ্গে মামলার বিচার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জশিট দাখিল করা হবে।