আল্লাহর ক্ষমতা ও প্রকৃতির বার্তা: ঝড়-বৃষ্টি নিয়ে মানুষের অসহায়ত্ব
আইয়ুব আলী। রংপুর
বাংলাদেশে টানা ঝড়-বৃষ্টি নিয়ে আলোচনা: “মানুষের ক্ষমতা জিরো, সর্বশক্তিমান একমাত্র আল্লাহ
বাংলাদেশের আবহাওয়ায় চলতি বছর একুশে রমাদান থেকে শুরু করে ঈদুল আযহা পর্যন্ত প্রায় প্রতিনিয়তই দেখা গেছে ঝড়, বজ্রপাত, কালবৈশাখী ও টানা বৃষ্টিপাতের ঘটনা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টি এবং ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা নিয়ে একের পর এক সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের আবহাওয়ায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে।
এই প্রাকৃতিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে নতুন করে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সামনে এসেছে। অনেকেই বলছেন, যদি এই ঝড়-বৃষ্টি কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের তৈরি কোনো কৃত্রিম ব্যবস্থার মাধ্যমে হতো, তাহলে এতক্ষণে দেশে আন্দোলন, প্রতিবাদ, মামলা কিংবা নানা অভিযোগে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠত। কিন্তু যখন বিষয়টি মহান আল্লাহর সৃষ্টি ও নিয়ন্ত্রণাধীন প্রকৃতির অংশ, তখন মানুষ নীরব হয়ে যায়। কারণ মানুষ বুঝতে পারে, প্রকৃতির সামনে তার ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের আট থেকে নয়টি অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। কোথাও কোথাও নদীবন্দরে সতর্ক সংকেতও দেখাতে বলা হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক দফা ভারী বর্ষণ জনজীবনে ভোগান্তি তৈরি করলেও মানুষ এটিকে প্রাকৃতিক বাস্তবতা হিসেবেই গ্রহণ করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মানুষ যখন প্রযুক্তি, ক্ষমতা ও আধুনিকতার অহংকারে নিজেকে শক্তিশালী মনে করে, তখন প্রকৃতির একটি ঝড় কিংবা কয়েক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিই তাকে বুঝিয়ে দেয়—সর্বশক্তিমান একমাত্র আল্লাহ। মানুষের জ্ঞান-বিজ্ঞান অনেক উন্নত হলেও প্রকৃতির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ মানুষের হাতে নেই।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, ইসলাম মানুষকে সবসময় আল্লাহর ক্ষমতার প্রতি বিশ্বাস রাখতে শিক্ষা দেয়। পবিত্র কোরআনে বহুবার উল্লেখ করা হয়েছে যে, আকাশ-বাতাস, বৃষ্টি, বজ্রপাত ও প্রাকৃতিক শক্তির নিয়ন্ত্রণ একমাত্র আল্লাহর হাতে। মানুষ কেবল চেষ্টা করতে পারে, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মালিক মহান সৃষ্টিকর্তা।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মে মাসের দ্বিতীয়ার্ধে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়ে তা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতে তীব্র গরম থেকে মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে। তবে কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতা, যানজট ও দুর্ভোগও তৈরি হয়েছে। তারপরও সাধারণ মানুষের মাঝে খুব বেশি অভিযোগ দেখা যায়নি। কারণ মানুষ উপলব্ধি করে, প্রকৃতির এই শক্তির সামনে মানুষের করার কিছু নেই।
সামাজিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই উপলব্ধি মানুষের মাঝে আল্লাহভীতি ও আত্মসমালোচনার মনোভাব তৈরি করতে পারে। মানুষ বুঝতে পারে, পৃথিবীর সব ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আধুনিক ব্যবস্থার পরও প্রকৃতির সামনে মানুষ অসহায়। তাই অহংকার নয়, বরং স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও দায়িত্বশীল আচরণই হওয়া উচিত মানবজাতির প্রধান শিক্ষা।
বাংলাদেশের আবহাওয়ায় চলমান এই পরিবর্তন ও ঘন ঘন ঝড়-বৃষ্টির ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে—মানুষ যতই শক্তিশালী ভাবুক না কেন, প্রকৃতির চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ মানুষের হাতে নয়। মহান আল্লাহই সর্বশক্তিমান এবং সকল ক্ষমতার প্রকৃত অধিকারী। তাঁর ইচ্ছার বাইরে কিছুই ঘটে না—এমন উপলব্ধিই এখন অনেকের বক্তব্য ও আলোচনায় উঠে আসছে।