কনকদিয়া বাজার জামে মসজিদে জুমার আলোচনায় ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি: নৈতিকতা, মানবসেবা ও তাকওয়া
নিজস্ব প্রতিনিধি, আইয়ুব আলী:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী কনকদিয়া বাজার জামে মসজিদে জুমার নামাজ উপলক্ষে এক ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাউফলের গণমানুষের সেবক ও জাতীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
শুক্রবার জুমার নামাজের পূর্বে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় স্থানীয় আলেম-ওলামা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মসজিদ কমিটির সদস্য, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, ছাত্র এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় মসজিদ প্রাঙ্গণে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
আলোচনায় ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেন, ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা, যা মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে শান্তি, ন্যায়বিচার এবং কল্যাণ প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দেয়। তিনি সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, মাদক, দুর্নীতি এবং অপরাধ প্রবণতা রোধে ইসলামী মূল্যবোধ চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, “একটি সুন্দর সমাজ গঠনে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। মানবসেবা, সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তুলতে পারি।”
সংসদ সদস্য বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভেদাভেদ ভুলে দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক আদর্শে উদ্বুদ্ধ হওয়ার পরামর্শ দেন।
আলোচনা শেষে তিনি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, দেশের শান্তি-সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন। মোনাজাতে দেশ ও জাতির অগ্রগতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মুক্তি এবং মানুষের সুখ-শান্তি কামনা করা হয়।
স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে এমন ধর্মীয় ও সচেতনতামূলক আলোচনা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের উপস্থিতি এবং বক্তব্য মুসল্লিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত মুসল্লিরা দেশ, জাতি ও এলাকার উন্নয়ন কামনা করে দোয়া করেন। একই সঙ্গে মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।