রামিসা হত্যাকাণ্ডে শোকাহত পরিবারের পাশে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান
আইয়ুব আলী। রংপুর
১ জুন: আলোচিত রামিসা হত্যাকাণ্ডে শোকাহত ও বর্তমানে অসুস্থ রামিসার বাবাকে দেখতে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে যান বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার (১ জুন) বিকেলে তিনি হাসপাতালে গিয়ে রামিসার বাবার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
হাসপাতালে অবস্থানকালে ডা. শফিকুর রহমান রামিসার বাবার চিকিৎসা পরিস্থিতি সম্পর্কে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি নিহত রামিসার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে পরিবারের সদস্যদের প্রতি ধৈর্য ও সাহস ধারণের আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎ শেষে তিনি বলেন, একটি নিষ্পাপ শিশুর নির্মম মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, সমগ্র জাতির জন্য গভীর বেদনার বিষয়। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সমাজের সব স্তরের মানুষকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের সম্মিলিত দায়িত্ব।
আমীরে জামায়াত বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ড দেশের মানুষের হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। তাই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তদন্তকারী সংস্থা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তিনি আরও বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তার পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
হাসপাতালে উপস্থিত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তিনি তাদের মানসিক শক্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি পরিবারের প্রতি মানবিক সহমর্মিতা প্রকাশ করেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পরিবারের সদস্যরা তাদের বর্তমান পরিস্থিতি এবং চিকিৎসাধীন বাবার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাঁকে অবহিত করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি সন্তানের মৃত্যু কোনো বাবা-মায়ের জন্যই পূরণ হওয়ার নয়। এমন শোক ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তিনি সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষদেরও শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি দেশের শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তি ইতোমধ্যে রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে এ ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবি জোরালো হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও অপরাধ প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবারভিত্তিক মূল্যবোধ চর্চাও গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
রামিসা হত্যাকাণ্ডে শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের এই হাসপাতাল পরিদর্শন মানবিক সহমর্মিতার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত তদন্ত, সুষ্ঠু বিচার এবং শিশু নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে যে গুরুত্বারোপ করেছেন, তা জনমনে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।