গঙ্গাচড়ায় মাদকের ভয়ংকর বিস্তার, উদ্বেগে সাধারণ মানুষ
সৌরভ উজজামান,
রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলায় মাদকের বিস্তার দিন দিন উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে মাদক ব্যবসা এতটাই বিস্তৃত হয়েছে যে স্থানীয় বাসিন্দারা এর প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। হাট-বাজার, রাস্তার মোড়, এমনকি কিছু আবাসিক এলাকাতেও প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গঙ্গাচড়ার মহিপুর, লক্ষ্মীটারী ও মর্নেয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ব্যবসার একটি সক্রিয় চক্র কাজ করছে। এর আগে দৈনিক সময় ২৪-এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে মর্নেয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ড পর্যন্ত, অর্থাৎ শেখপাড়া বাজার থেকে তালপট্টি বাজার এলাকায় মসজিদ ও মাদ্রাসার সামনেও মাদকের ব্যবসা চলার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু অভিযান পরিচালনা করা হলেও স্থানীয়দের দাবি, মাদক ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান চলাকালে কিছুদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পরে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে মাদক ব্যবসায়ীরা। তারা বিভিন্ন কৌশলে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে, ফলে যুবসমাজের একটি অংশ ধীরে ধীরে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এতে পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, মাদকের বিরুদ্ধে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবারভিত্তিক নজরদারি এবং তরুণদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগও জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করছে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ এবং কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা চক্রকে ছাড় দেওয়া হবে না।
গঙ্গাচড়াবাসীর প্রত্যাশা, মাদক নির্মূলে প্রশাসন আরও কঠোর ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে একযোগে এগিয়ে এসে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও সুস্থ সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।