প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১১, ২০২৬, ২:১৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ৬, ২০২৬, ৮:০৯ এ.এম
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেমিককে ডেকে এনে ফাঁদে ফেললেন প্রতারক প্রেমিকা

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেমিককে ডেকে এনে ফাঁদে ফেললেন প্রতারক প্রেমিকা
মোঃ সাদেকুল ইসলাম, রংপুর।
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেমিক আলামিন কে ঢাকা থেকে বরিশালে ডেকে এনেছিলেন প্রেমিকা মাহিয়া মাহি। এরপর বিয়ের কেনাকাটার নামে প্রায় ৫০ হাজার টাকার শপিং এবং পার্লারে যাওয়ার কথা বলে আরও ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দিয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, দেড় বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর মাহির কথায় বিশ্বাস করে আল-আমিন নামের এক যুবক গত ৫ মে বরিশালে যান পরিকল্পনা ছিল সেদিনই গোপনে তাদের বিয়ে হবে।
আল-আমিন জানান, ফেসবুকে পরিচয়ের মাধ্যমে তাদের সম্পর্কের শুরু। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের সময় তিনি মাহিকে বহুবার টাকা পাঠিয়েছেন এবং সেই সকল বিকাশ ও নগদ লেনদেনের স্টেটমেন্টও তার কাছে রয়েছে। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মাহি তাকে বরিশালে ডেকে আনেন।
বরিশাল নগরীর বাজার রোডের নিউ এলাহি ক্লোথ স্টোরে মাহি তার পরিচয় দেওয়া ‘খালাতো ভাই’কে সঙ্গে নিয়ে বিয়ের কেনাকাটা করতে যান। সেখানে নিজের জন্য শাড়ি, কাপড়সহ নানা জিনিস কেনেন এবং সেই সঙ্গে ওই কথিত খালাতো ভাইয়ের জন্যও একটি পাঞ্জাবি কেনানো হয় আল-আমিনের টাকায়। কেনাকাটার পর মাহি জানান, তিনি পার্লারে গিয়ে বিয়ের সাজ নেবেন এবং কাবিনের কিছু খরচ আছে বলে আল-আমিনের কাছ থেকে আরও ২০ হাজার টাকা নেন।
এরপর মাহি আল-আমিনকে অপেক্ষা করতে বলে চলে যান। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি আর ফিরে আসেননি। পরে তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে আল-আমিন খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন মাহিয়া মাহি তিন মাস আগে বিয়ে করেছেন। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, যাকে তিনি ‘খালাতো ভাই’ পরিচয় দিয়েছিলেন, তিনি আসলে মাহির বর্তমান স্বামী।
দোকানের এক কর্মচারী জানান, দোকানে আসার পর থেকেই মেয়েটির আচরণ ছিল অস্বাভাবিক। প্রেমিক আল-আমিনের প্রতি তার কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি, বরং সবসময় ওই তথাকথিত খালাতো ভাইয়ের সঙ্গেই বেশি ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। কেনাকাটা শেষে কৌশলে আল-আমিনকে আলাদা রিকশায় তুলে দিয়ে মাহি নিজে স্বামীর সঙ্গে অন্য রিকশায় চলে যান।
ঘটনায় হতভম্ব আল-আমিন পরে মাহির মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হন যে পুরো ঘটনাটি ছিল একটি পরিকল্পিত প্রতারণা। এ ঘটনায় তিনি বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অন্যদিকে অভিযুক্ত মাহিয়ার স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। উল্টো সাংবাদিকদের কাছে যাওয়াকে কেন্দ্র করে আল-আমিনকে সাইবার ক্রাইমসহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বরিশাল নগরীতে।
https://dainiksomoy24.com/