ছাত্রশিবির নেতা জিসান আহমেদের নিখোঁজ রহস্য ঘনীভূত, মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে ক্ষোভ
প্রতিনিধি: আইয়ুব আলী, রংপুর
কুমিল্লা জেলা উত্তর ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিভাগের সহকারী সম্পাদক জিসান আহমেদ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ক্রমেই বাড়ছে। পরিবারের দাবি, গতরাত থেকে নিখোঁজ থাকা জিসান আহমেদকে অপহরণ করা হয়েছে এবং অপহরণকারীরা তার পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করেছে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, জিসান আহমেদের সঙ্গে শেষবার যোগাযোগের পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান না মেলায় পরিবার চরম উদ্বেগে পড়ে। পরদিন ফজরের পরপরই তারা স্থানীয় থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে চান। তবে অভিযোগ রয়েছে, জিডি গ্রহণের প্রক্রিয়াতেই দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ করা হয় এবং সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জিডি গ্রহণ করা হয়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, জিসানকে অপহরণের পর অজ্ঞাত একটি চক্র তাদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। ফোনে জিসানের কণ্ঠও শোনানো হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। পরিবারের ভাষ্যমতে, ফোনে জিসান আহমেদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমাকে সারারাত মারধর করা হয়েছে, তারা এখন আমাকে হত্যা করতে চায়।”
এ ঘটনায় পরিবারের অভিযোগ, মুক্তিপণ দাবিকারী নম্বরটি এখনও সচল থাকা সত্ত্বেও এবং প্রযুক্তিগতভাবে ট্র্যাক করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তাদের মতে, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হলে অপহরণকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হতে পারত।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে, মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং এটি অপহরণের ঘটনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত জিসান আহমেদকে উদ্ধারের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি জানানো হয়নি।
স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মীর দাবি, জিসান আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং সংশ্লিষ্ট থানার ওসির বিতর্কিত ভূমিকার সমালোচনা করে আসছিলেন। তাদের আশঙ্কা, রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার জের ধরে তাকে অপহরণ করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হতে পারে। তবে এই অভিযোগের স্বপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে জিসান আহমেদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ছাত্রশিবির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
ছাত্রশিবির কুমিল্লা জেলা উত্তর শাখা জানিয়েছে, জিসান আহমেদের সন্ধান এবং পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকার প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে। সংগঠনের নেতারা বলেন, একজন নাগরিক নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ আসার পরও যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তবে জনমনে উদ্বেগ ও অনাস্থা সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক।
স্থানীয় সচেতন মহলও বিষয়টির দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। তারা মনে করছেন, অপহরণ, গুম বা মুক্তিপণ দাবির মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তারা জিসান আহমেদের নিরাপদ ও দ্রুত প্রত্যাবর্তন কামনা করেছেন।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জিসান আহমেদের অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করেছেন এবং দ্রুত তাকে জীবিত উদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছেন।