জুলাইয়ের মূল আকাঙ্ক্ষা ইনসাফভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন: ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
আইয়ুব আলী, রংপুর
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি ইনসাফভিত্তিক, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণ। তিনি বলেন, দেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে যে বৈষম্য, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের শিকার হয়েছে, তার অবসান ঘটিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জুলাই আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল।
সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় বক্তব্য প্রদানকালে সাদিক কায়েম বলেন, “জুলাইয়ের মূল আকাঙ্ক্ষা হলো একটি ইনসাফভিত্তিক, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণ। ফ্যাসিবাদী কাঠামো ভেঙে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা।” তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের চেতনা কেবল সরকার পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে বিদ্যমান অন্যায়, বৈষম্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহার দূর করাও এর অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি উল্লেখ করেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক দল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন এবং বিচারব্যবস্থায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং মানবিক মর্যাদা রক্ষার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
সাদিক কায়েম বলেন, তরুণ সমাজই দেশের পরিবর্তনের প্রধান শক্তি। জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে যে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা সচেতন এবং দায়িত্বশীল। তিনি বলেন, তরুণদের নেতৃত্বে এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠতে হবে, যেখানে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীস্বার্থের পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে বিভাজন, সহিংসতা ও প্রতিহিংসার সংস্কৃতি চলে আসছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নতুন প্রজন্ম এমন একটি বাংলাদেশ চায়, যেখানে নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং সকল মানুষ সমান সুযোগ পাবে।
বক্তব্যে তিনি দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক খাতে সমতা প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের জন্য উন্নয়নের সুফল সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান কমিয়ে এনে সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
ডাকসু ভিপি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি সাধারণ জনগণেরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ন্যায়বিচার, সমতা ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনের আদর্শ ও চেতনাকে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তারা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এর মাধ্যমেই জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।