পটিয়ায় অপহৃত শিশু জায়হানের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার, একই পরিবারের ৫ সদস্য আটক
আইয়ুব আলী, রংপুর
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর পাঁচ বছর বয়সী শিশু মো. জায়হানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন মো. সাইফুল, শাহানুর, নিহা, নিহান ও ওয়াসিফা। তাদের বসতঘরের পেছন থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুন দুপুর প্রায় ১২টার দিকে বাড়ির সামনের সড়কে খেলাধুলার সময় হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় শিশু জায়হান। দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, শিশুটি বাড়ির সামনের পুকুরে পড়ে ডুবে যেতে পারে। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় পুকুরে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু কোথাও শিশুটির সন্ধান না মেলায় পরিবারের পক্ষ থেকে পটিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
নিখোঁজের ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করলে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে নজরদারিতে আনে। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশের সন্দেহ একই এলাকার একটি পরিবারের সদস্যদের ওপর গিয়ে পড়ে। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং অনুসন্ধানের ভিত্তিতে বসতঘরের পেছনের একটি স্থান থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মরদেহ উদ্ধারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। অনেকেই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কী কারণে শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছিল এবং হত্যার পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। আটক পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত জায়হান ছিল পরিবারের একমাত্র সন্তান। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিশুটির মা-বাবা বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। তারা এই নির্মম ঘটনার বিচার দাবি করেছেন।
পটিয়া থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে, শিশু অপহরণ ও হত্যার মতো নৃশংস ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তারা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বিশেষ করে শিশুদের একা বাইরে খেলাধুলা করতে না দেওয়া এবং অপরিচিত ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রতিটি দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অপহরণ থেকে শুরু করে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
চট্টগ্রামের পটিয়ার এই হৃদয়বিদারক ঘটনা শুধু স্থানীয় এলাকাতেই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নিষ্পাপ এক শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।