রংপুরে কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা: প্ররোচনার অভিযোগে প্রাইভেট শিক্ষক গ্রেফতার
আইয়ুব আলী, রংপুর
রংপুর মহানগরীতে এক কলেজছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে এক প্রাইভেট শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি)। মঙ্গলবার (২৩ জুন) মহানগরীর জে.এল. রায় রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন রংপুর মহানগরীর নর্থ ভিউ হোটেলের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে নুজশাত জাহান (১৮) নামে এক কলেজছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। তিনি রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
নিহতের পরিবার জানায়, নুজশাত জাহানের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর তার বাবা মো. নজরুল ইসলাম, একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য, কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, নুজশাতের প্রাইভেট শিক্ষক শাহরিয়ার আহম্মেদ সাকিনের মানসিক নির্যাতন ও আচরণের কারণে তার মেয়ে আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত হয়ে থাকতে পারেন।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে অভিযুক্তের সঙ্গে বিভিন্ন কথোপকথন এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। এসব আলামত ঘটনার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদের দিকনির্দেশনায় এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি)-এর তত্ত্বাবধানে কোতয়ালী থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের একপর্যায়ে ২৩ জুন মহানগরীর জে.এল. রায় রোড এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি শাহরিয়ার আহম্মেদ সাকিন (২৫)কে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত শাহরিয়ার আহম্মেদ সাকিনের বাড়ি রংপুর মহানগরীর ধাপ চিকলী ভাটা এলাকায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় কোতয়ালী থানায় পেনাল কোড, ১৮৬০-এর ৩০৬ ও ১০৯ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আত্মহত্যায় প্ররোচনা এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের অভিযোগে মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনাটির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে মহানগরবাসীর জানমাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বদা আন্তরিক ও তৎপর রয়েছে।
এদিকে, কলেজছাত্রীর অকাল মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশের তদন্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট সবাই।