সংসদ টিভি সম্প্রচারে এমপিদের নাম ও আসন প্রদর্শনের নির্দেশ, স্বচ্ছতা বাড়বে বলে আশা
আইয়ুব আলী। রংপুর
জাতীয় সংসদের অধিবেশন টেলিভিশনে সম্প্রচারের সময় সংসদ সদস্যদের ছবি বা চেহারার পাশাপাশি তাদের নাম ও সংসদীয় আসন প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। সংসদীয় কার্যক্রমকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজবোধ্য, তথ্যসমৃদ্ধ ও স্বচ্ছ করে তুলতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিষয়টি উত্থাপন করেন জামায়াতের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, সংসদ অধিবেশন সরাসরি সম্প্রচারের সময় দর্শকরা অনেক ক্ষেত্রে বক্তার পরিচয় জানতে পারেন না। বিশেষ করে নতুন বা কম পরিচিত সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের সময় তাদের নাম ও নির্বাচনী এলাকার তথ্য প্রদর্শন না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্যদের নাম ও সংসদীয় আসন পর্দায় প্রদর্শনের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
মুজিবুর রহমানের বক্তব্যের পর বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে স্পিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। স্পিকার বলেন, সংসদ জনগণের প্রতিনিধিদের সর্বোচ্চ আইনসভা। তাই সংসদে কে বক্তব্য দিচ্ছেন এবং তিনি কোন এলাকার প্রতিনিধিত্ব করছেন, সে তথ্য জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। টেলিভিশন সম্প্রচারে এ তথ্য যুক্ত হলে সংসদীয় কার্যক্রম সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ ও সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
বর্তমানে সংসদ অধিবেশনের সরাসরি সম্প্রচারে বক্তব্যদানকারী সংসদ সদস্যের ভিডিওচিত্র দেখানো হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার নাম বা নির্বাচনী এলাকার তথ্য নিয়মিতভাবে প্রদর্শিত হয় না। ফলে সংসদের কার্যক্রম নিয়মিত অনুসরণকারী দর্শকদের বাইরেও সাধারণ মানুষ অনেক সময় বক্তার পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেন না। নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে এই সীমাবদ্ধতা দূর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের অনেক গণতান্ত্রিক দেশে সংসদ বা পার্লামেন্টের অধিবেশন সম্প্রচারের সময় বক্তার নাম, রাজনৈতিক পরিচয় এবং নির্বাচনী এলাকার তথ্য পর্দায় প্রদর্শন করা হয়। এতে দর্শকরা সহজেই বুঝতে পারেন কে বক্তব্য দিচ্ছেন এবং তিনি কোন অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করছেন। বাংলাদেশেও একই ধরনের ব্যবস্থা চালু হলে সংসদীয় সম্প্রচারের মান আরও উন্নত হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদীয় কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একজন সংসদ সদস্য সংসদে কী বক্তব্য দিচ্ছেন, কোন বিষয়ে মতামত দিচ্ছেন এবং কতটা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন, তা সাধারণ মানুষ আরও সহজে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। একই সঙ্গে নির্বাচনী এলাকার ভোটাররাও তাদের প্রতিনিধির সংসদীয় কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সরাসরি ধারণা লাভ করবেন।
এদিকে সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্পিকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে। সম্প্রচার ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করার জন্য এমন পদক্ষেপ সময়োপযোগী। এতে সংসদের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ আরও জোরদার হবে এবং গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী হবে।
সংসদ দেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম যখন সরাসরি জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হয়, তখন তথ্যের পূর্ণতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বক্তার পরিচয়, নির্বাচনী এলাকা এবং সংসদীয় অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রদর্শনের মাধ্যমে সংসদীয় সম্প্রচার আরও কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।