শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বগুড়ার আজিজুল হক কলেজ শিক্ষার্থীদের এক দফা আন্দোলন, ক্ষমা প্রত্যাখ্যান
আইয়ুব আলী। রংপুর
শিক্ষার্থীদের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য এবং দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছেন বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষমা প্রত্যাখ্যান করে তার অবিলম্বে পদত্যাগের এক দফা দাবি জানানো হয়েছে।
১৪ জুলাই প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ এবং শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে অবমাননাকর মন্তব্য করার মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী দেশের শিক্ষার্থী সমাজের মর্যাদায় আঘাত করেছেন। পরবর্তীতে তিনি ক্ষমা চাইলেও তা শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়।
শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি, বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার পরিবর্তে শিক্ষামন্ত্রী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে মন্তব্য করেন। শিক্ষার্থীদের মতে, একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর এমন মন্তব্য শুধু দুঃখজনকই নয়, বরং তা দেশের লাখো শিক্ষার্থীর সম্মান ও আত্মমর্যাদার প্রতি অবমাননার শামিল। এ কারণেই শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা প্রত্যাখ্যান করে তার পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। কেউ কেউ পথে দুর্ঘটনা ও নানা দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। এমন বাস্তবতায় পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি চরম উদাসীনতার পরিচয় বহন করে বলে তারা মনে করেন।
দেশের বিভিন্ন জেলায় একই দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হওয়ার বিষয়টিও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়ন না করেই পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারকে।
বিবৃতিতে শিক্ষার্থীদের কয়েকটি দাবিও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা, ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য ও সামগ্রিক পরিস্থিতির দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।
শিক্ষার্থীরা বলেন, আন্দোলন দমনে বলপ্রয়োগ, শিক্ষার্থীদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ এবং শিক্ষা সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতার দায় এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তারা মনে করেন, শিক্ষার্থীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।
বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়, “এখন আমাদের এক দফা, এক দাবি। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনের অবিলম্বে পদত্যাগ।”
এদিকে শিক্ষার্থীদের এ দাবিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে মত প্রকাশ করছেন। অনেকেই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্ভূত পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানে সরকার, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কার্যকর সংলাপ প্রয়োজন। অন্যথায় চলমান অসন্তোষ আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন সংকটের সৃষ্টি হতে পারে।