চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে যা বললেন স্বেচ্ছাসেবক দলের তুষার
আইয়ুব আলী । রংপুর
রংপুরের হারাগাছ পৌরসভা এলাকায় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আতিকুজ্জামান তুষারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন আতিকুজ্জামান তুষার। বিষয়টি নিয়ে দৈনিক সময় ২৪-এর পক্ষ থেকে সরাসরি তার সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।
আতিকুজ্জামান তুষার বলেন, তিনি কোনো ধরনের চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নন। বরং হারাগাছের আশরাফুল ইসলাম স্বপন নামে একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের চিকিৎসা-সংক্রান্ত সনদ দেখতে চাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে চাঁদাবাজ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তুষারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির চিকিৎসা কার্যক্রম ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তিনি তার ডাক্তারি সার্টিফিকেট দেখতে চেয়েছিলেন। তুষার দাবি করেন, তিনি কোনো টাকা-পয়সা দাবি করেননি এবং কারও কাছে চাঁদাও চাননি। শুধুমাত্র চিকিৎসকের সনদ দেখতে চাওয়ার ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘চাঁদাবাজি’ শব্দটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হওয়ায় যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সহজেই এমন একটি ট্যাগ লাগিয়ে দেওয়া সম্ভব। তার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
আতিকুজ্জামান তুষার আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংগঠন তার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেবে, তা তিনি মেনে নেবেন। তবে অভিযোগটি মিথ্যা প্রমাণিত হলে যারা তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছেন, তাদেরও এর দায় নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তুষারের দাবি, কোনো ব্যক্তি যদি সত্যিই চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত হওয়া উচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লেই সেটিকে সত্য ধরে নেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমি যদি চাঁদাবাজি করে থাকি, তাহলে সঠিক তদন্ত করে আমার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু তদন্তে যদি প্রমাণ হয় যে আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভুল, তাহলে যারা মিথ্যা অভিযোগ করেছেন, তাদেরও এর খেসারত দিতে হবে।”
এদিকে, চাঁদাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তবে আতিকুজ্জামান তুষারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে, সেটির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে আশরাফুল ইসলাম স্বপন নামে ওই চিকিৎসকের বক্তব্যও এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগটি সত্য না মিথ্যা, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
তুষার বলেন, তিনি চান বিষয়টি নিয়ে যথাযথভাবে তদন্ত করা হোক। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে এলে সব ধরনের বিভ্রান্তির অবসান হবে বলে মনে করেন তিনি।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বক্তব্যের পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণ যাচাই গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর সেটি যাচাই না করে প্রচার করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে আতিকুজ্জামান তুষার তার অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, তিনি চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নন এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, চিকিৎসকের সনদ দেখতে চাওয়ার ঘটনাকেই কেন্দ্র করে তাকে চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও অন্যান্য পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা পরবর্তী সময়ে যুক্ত করা যেতে পারে।