ছাত্রদল নেতা জিসানকে তুলে নেওয়ার পর সড়কে মিলল মরদেহ
কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারের চকরিয়ায় কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ইসফাতুল ইসলাম জিসানকে অপহরণের প্রায় চার ঘণ্টা পর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকা থেকে সোমবার ভোরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে আঘাতের চিহ্নও পাওয়া গেছে।
নিহত জিসান চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ লোটনী এলাকার নাজেম উদ্দিনের ছেলে। তিনি কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাকারা মাঝের স্টেশনের একটি দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন জিসান। এ সময় সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাসে করে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি এসে তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়।
পরিবারের অভিযোগ, অপহরণের পর জিসানকে চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজবাগ এলাকার ‘কবির টাওয়ারে’ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।
অপহরণের প্রায় চার ঘণ্টা পর মহাসড়কের পাশে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় জিসানের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানা গেছে।
চকরিয়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত এবং কী কারণে জিসানকে হত্যা করা হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে জিসানকে হত্যার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন চকরিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম বাপ্পি। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
রেজাউল করিম বাপ্পি বলেন, **“জিসান ছাত্রদলের একজন উদীয়মান ও সক্রিয় নেতা ছিলেন। তাকে অপহরণ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি খুনিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা না হয়, তবে চকরিয়া উপজেলা ছাত্রদল সাধারণ ছাত্র সমাজকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।”**
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একজন রাজনৈতিক কর্মীকে তুলে নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যে তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, জিসানকে কোথায় এবং কীভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে।