প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড নেওয়া ভাইরাল কৃষক কবির হোসেন আর নেই
আইয়ুব আলী, রংপুর
টাঙ্গাইলের সেই ভাইরাল কৃষক কবির হোসেন আর নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড গ্রহণের মাধ্যমে দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া এই কৃষক মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন এবং স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামের বাসিন্দা কবির হোসেন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। মঙ্গলবার রাতে নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে তিনি বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। রাত ৮টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
কবির হোসেন সাধারণ একজন কৃষক হলেও সম্প্রতি একটি বিশেষ ঘটনার কারণে তিনি জাতীয়ভাবে আলোচনায় আসেন। কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড গ্রহণ করেন তিনি। সেই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়। এরপর থেকেই তিনি ‘ভাইরাল কৃষক’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কবির হোসেন ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিধে, পরিশ্রমী ও মাটির মানুষ। কৃষিকাজের মাধ্যমে পরিবার পরিচালনার পাশাপাশি তিনি এলাকার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর আচরণ ও মানবিক গুণাবলীর কারণে এলাকাবাসীর কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়।
কবির হোসেনের মৃত্যুর খবরে শোক প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
শোকবার্তায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, “কবির হোসেন একজন পরিশ্রমী কৃষক ছিলেন। দেশের কৃষি উন্নয়নে কৃষকদের অবদান অপরিসীম। তাঁর মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। মহান আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন এবং তাঁর পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি প্রদান করেন।”
কবির হোসেনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা তাঁর বাড়িতে ভিড় করেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন।
গ্রামবাসীরা জানান, একজন সাধারণ কৃষক হয়েও তিনি দেশের কৃষক সমাজের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী থেকে কৃষক কার্ড গ্রহণের সেই স্মরণীয় মুহূর্ত তাঁকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি এনে দেয়। তাঁর অকাল মৃত্যুতে এলাকাবাসী একজন পরিশ্রমী ও বিনয়ী মানুষকে হারাল।
আজ তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
কবির হোসেনের মৃত্যু শুধু তাঁর পরিবারের জন্য নয়, স্থানীয় কৃষক সমাজের জন্যও এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত থাকা এই কৃষকের স্মৃতি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
মহান আল্লাহ তায়ালা মরহুম কবির হোসেনকে ক্ষমা করে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করুন। আমিন।