June 17, 2026, 7:28 am
শিরোনাম:
সরকার গঠনের পর খাল খননের মহোৎসব, নেই স্বচ্ছ জবাবদিহিতা: আখতার হোসেন হিজরি নববর্ষ ১৪৪৮: দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে শুভেচ্ছা জানালেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ইস্ট লন্ডনে হাসনাত আব্দুল্লাহর সভার সামনে বিক্ষোভ ও ডিম নিক্ষেপ, উত্তেজনা রাজবাড়ীতে জামায়াত কর্মীর অগ্নিদগ্ধ লাশ উদ্ধার জুলাইয়ের মূল আকাঙ্ক্ষা ইনসাফভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন: ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ, গণতন্ত্র ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা বেনজির আহমেদ গ্রেপ্তার সংযুক্ত আরব আমিরাতে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ চকরিয়ায় বিএনপির জনসভা: রাষ্ট্র সংস্কার, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের বার্তা দিলেন তারেক রহমান ছাত্রশিবির নেতা জিসান আহমেদের নিখোঁজ রহস্য ঘনীভূত, মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে ক্ষোভ বিশ্বজুড়ে ফেসবুক ডাউন: লগইন সমস্যা, মেসেঞ্জার বিকল, ভোগান্তিতে কোটি ব্যবহারকারী

সরকার গঠনের পর খাল খননের মহোৎসব, নেই স্বচ্ছ জবাবদিহিতা: আখতার হোসেন

আইয়ুব আলী

সরকার গঠনের পর খাল খননের মহোৎসব, নেই স্বচ্ছ জবাবদিহিতা: আখতার হোসেন

আইয়ুব আলী। রংপুর
সরকার গঠনের পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কাউনিয়া-পীরগাছা (রংপুর-৪) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা আখতার হোসেন।
সম্প্রতি এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পর যেন খাল খননের এক মহোৎসব শুরু হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে খাল খনন ও পুনঃখনন প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও প্রকৃত কাজের মান, ব্যয়ের হিসাব এবং প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, জনগণের করের অর্থ ব্যয় করে পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর যথাযথ তদারকি না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত উন্নয়নের পরিবর্তে অপচয় ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, “খাল খননের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোথায় কত টাকা ব্যয় হচ্ছে, কীভাবে ব্যয় হচ্ছে এবং প্রকল্পের বাস্তব সুফল জনগণ পাচ্ছে কি না, সে বিষয়ে কোনো স্বচ্ছ জবাবদিহিতা দেখা যাচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, দেশের কৃষি, পরিবেশ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে পরিকল্পনাহীনভাবে বা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে জনগণের প্রত্যাশিত সুফল অর্জন সম্ভব নয়। এজন্য প্রকল্প গ্রহণ থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
এন সি পির এই নেতা বলেন, অনেক এলাকায় খাল খননের কাজ শুরু হলেও কিছুদিন পর সেই খাল আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও খননকৃত মাটি ব্যবস্থাপনার অভাব, নিম্নমানের কাজ এবং রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতির কারণে প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
তার মতে, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জনগণের অংশগ্রহণ ও সামাজিক নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষক, পরিবেশবিদ এবং সাধারণ নাগরিকদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে অনিয়ম কমবে এবং প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।
আখতার হোসেন আরও বলেন, সরকার যদি সত্যিকার অর্থে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চায়, তাহলে প্রতিটি প্রকল্পের ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি স্বাধীন তদন্ত ও নিরপেক্ষ অডিটের মাধ্যমে প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা উচিত। এতে জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
তিনি দাবি করেন, বর্তমান সময়ে দেশের মানুষ শুধু উন্নয়নের ঘোষণা নয়, বরং উন্নয়নের বাস্তব ফলাফল দেখতে চায়। তাই প্রকল্পের সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে গুণগত মান এবং টেকসই ফলাফলের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খাল খনন ও পুনঃখনন প্রকল্প দেশের জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে এসব প্রকল্পের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে সুষ্ঠু পরিকল্পনা, কার্যকর বাস্তবায়ন এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার ওপর।
এদিকে আখতার হোসেনের এমন মন্তব্য স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এন সি পি ও জামাতের নেতাকর্মীরা তার বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে অধিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক এড়াতে হলে প্রকল্পের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও ব্যয় সংক্রান্ত তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা জরুরি। এতে একদিকে যেমন অনিয়ম কমবে, অন্যদিকে জনগণের আস্থাও বৃদ্ধি পাবে। ফলে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন আরও সহজ হবে।
খাল খনন প্রকল্প নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে আখতার হোসেনের এই বক্তব্য স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগের বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কী উদ্যোগ নেয়।

“খাল খনন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন এন সি পির নেতা আখতার হোসেন”



ফেসবুকে আমরা