রাজবাড়ীতে জামায়াত কর্মীর অগ্নিদগ্ধ লাশ উদ্ধার
আইয়ুব আলী। রংপুর
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মীর হাত-পা বাঁধা অগ্নিদগ্ধ লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
রোববার (১৫ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার এ দাবি জানান। তিনি বলেন, কালুখালী এলাকায় জামায়াত কর্মী মো. আসাদুজ্জামান (২৪)-কে নির্মমভাবে হত্যার পর তার হাত-পা বেঁধে লাশে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত নৃশংস, বর্বর ও মানবতাবিরোধী অপরাধ।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, “রাজবাড়ীর কালুখালীতে জামায়াত কর্মী মো. আসাদুজ্জামানকে নির্মমভাবে হত্যার পর হাত-পা বাঁধা লাশে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা চরম বর্বরতা, নৃশংসতা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ। এহেন ঘটনা আইয়্যামে জাহিলিয়াতকেও হার মানিয়েছে। আমি এই ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ড দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তার দাবি, এ ধরনের নৃশংস ঘটনা প্রমাণ করে যে দেশের নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আসাদুজ্জামানের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে প্রমাণিত হচ্ছে যে দেশের নাগরিকদের কোনো নিরাপত্তা নেই। সরকার নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করতে পারায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে সন্ত্রাসী ও খুনিরা উৎসাহিত হচ্ছে। তাই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতার এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনাগুলো জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক কর্মীদের লক্ষ্য করে সংঘটিত অপরাধের ঘটনা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে রাজবাড়ীর এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্তের অগ্রগতি বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
এদিকে নিহত আসাদুজ্জামানের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি নিহতের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বলেন, “আমি নিহত আসাদুজ্জামানের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। মহান আল্লাহ তাদের এই শোক সহ্য করার তাওফিক দান করুন।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত আসাদুজ্জামানের হাত-পা বাঁধা অগ্নিদগ্ধ লাশ উদ্ধারের ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হত্যার পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
রাজবাড়ীর কালুখালীতে জামায়াত কর্মী মো. আসাদুজ্জামানের অগ্নিদগ্ধ লাশ উদ্ধারের ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।