জামায়াতের আমিরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মিথ্যাচারের অভিযোগ রাশেদ খাঁনের
নিজস্ব প্রতিবেদক:** জামায়াতে ইসলামীর আমিরের বিরুদ্ধে একের পর এক রাজনৈতিক মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলেছেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেছেন, জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাঁদের আমিরকে দরবেশ মনে করতে পারেন, কিন্তু তাঁর দাবি, জামায়াতের আমির ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাশেদ খাঁন এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি জামায়াতের আমিরের অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জামায়াতের জোট এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াতের নেতারা তাঁদের আমিরকে দরবেশ ভাবতে পারেন। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, জামায়াতের আমির একের পর এক রাজনৈতিক মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জামায়াতের আমির অতীতে জাসদ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে তাঁর দাবি। সে সময়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অতীতে যিনি রাজনীতি করেছেন, জামায়াতে যোগ দেওয়ার পর তাঁর বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থানে কী পরিবর্তন এসেছে, সেটিও আলোচনার বিষয়।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে যোগ দেওয়ার পর কি তিনি মিথ্যা বলা ছেড়ে দিয়েছেন? রাশেদ খাঁনের এসব বক্তব্যে জামায়াতের আমিরের রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে বক্তব্যের সময় তিনি কী কী নির্দিষ্ট উদাহরণ দিয়েছেন, তা বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি।
আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের জোট নিয়ে প্রশ্ন
বক্তব্যে রাশেদ খাঁন অতীতের রাজনৈতিক জোটের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর জোট বা রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছিল। তিনি বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে যুক্ত হওয়ার ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে জামায়াতের নেতারা যেভাবে রাজনীতি করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
রাশেদ খাঁনের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ ও জামায়াত আবারও কাছাকাছি এসেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই দুই রাজনৈতিক পক্ষ একত্র হয়ে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।
তিনি বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রস্তুত রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের মধ্যে বর্তমানে কোনো সমন্বিত ষড়যন্ত্র চলছে কি না, সে বিষয়ে বক্তব্যে নির্দিষ্ট প্রমাণ বা বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি রাশেদ খাঁনের রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে সমালোচনা
বক্তব্যের আরেক অংশে রাশেদ খাঁন জামায়াতের আমিরের অতীত রাজনৈতিক পরিচয় ও কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, অতীতে জাসদ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার সময় তিনি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং মিথ্যা বক্তব্য দিয়েছেন।
রাশেদ খাঁনের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করলেই অতীতের কর্মকাণ্ড বা বক্তব্য নিয়ে প্রশ্নের অবসান হয় না। বরং একজন রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য, কর্মকাণ্ড এবং অতীত অবস্থানের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন বলে তাঁর বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয়।
তবে তাঁর তোলা অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট সময়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, প্রাসঙ্গিক নথি এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য সূত্র পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে জামায়াতের আমির বা দলের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিভিন্ন দলের নেতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য নতুন নয়। অতীতের জোট, রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন এবং বর্তমান সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন দলের সম্পর্ক নিয়ে প্রায়ই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। রাশেদ খাঁনের বক্তব্যও সেই রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।
বিএনপি ও জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান, আওয়ামী লীগের সঙ্গে অতীতের সম্পর্ক এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন দলের নেতারা নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরছেন। তবে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা যাচাই, তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য প্রকাশ করা গণমাধ্যমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
রাশেদ খাঁন তাঁর বক্তব্যে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলার প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করেন। তাঁর এই বক্তব্যে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান এবং বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়ে দলটির উদ্বেগের বিষয়টি উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যারা
অনুষ্ঠানে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ, যুগ্ম সদস্যসচিব ইলিয়াস রহমান মিঠু, কলেজের অধ্যক্ষ মশিয়ার রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।