May 1, 2026, 12:23 pm
শিরোনাম:
নয়াপল্টনে শ্রমিক সমাবেশে বক্তব্য দিবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মে দিবস ২০২৬: শ্রমিকের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণে নতুন প্রত্যয়ের বার্তা রংপুরসহ ৫ উন্নয়ন প্রস্তাব, ৩০ এপ্রিল বেসরকারি সদস্যদের দিনে আলোচনা চলন্ত ট্রেন থেকে এক বছরের শিশুকে বাঁচাতে বাবার অবিশ্বাস্য সাহস—ভৈরব রেলস্টেশনে হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া ঘটনা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াত করতে পারে না: এমপি ফজলুর রহমানের ভোর না হতেই রাজধানীতে ঝুম বৃষ্টি, বিপাকে অফিসগামী মানুষ সংসদে হাসনাত-নাহিদের সেলফি ভাইরাল, সামাজিক মাধ্যমে শুরু আলোচনা-সমালোচনা মাস্টার্স (প্রফেশনাল) ভর্তিতে কোটা মেধা তালিকা প্রকাশ, চূড়ান্ত ভর্তি ১৩ মে পর্যন্ত রংপুর-পীরগঞ্জ সড়কে অভিনব কৌশলে দুই নারীকে অজ্ঞান করে স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাই ছাত্রী নির্যাতনের অভিযোগে আবাসিক মহিলা মাদ্রাসা নিয়ে নতুন বিতর্ক

মে দিবস ২০২৬: শ্রমিকের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণে নতুন প্রত্যয়ের বার্তা

আইয়ুব আলী

মে দিবস ২০২৬: শ্রমিকের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণে নতুন প্রত্যয়ের বার্তা

আইয়ুব আলী। রংপুর
১ মে ২০২৬: বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস বা মে দিবস ২০২৬। এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত”। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে আলোচনা সভা, র‍্যালি ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।
মে দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক শুভেচ্ছা বার্তায় দেশের শ্রমজীবী ও কর্মজীবী মানুষের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়েছে। বার্তায় বলা হয়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং অবকাঠামোগত অগ্রগতির পেছনে শ্রমিকদের অবদান অপরিসীম। তাদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই একটি দেশের সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ে ওঠে।
ঐতিহাসিকভাবে, ১৮৮৬ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেট আন্দোলন-এ ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মে দিবসের সূচনা হয়। সেই আন্দোলনে যারা আত্মত্যাগ করেছিলেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এই দিবসটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি একটি রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এ লক্ষ্যেই শ্রমবান্ধব নীতি গ্রহণ, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
শ্রমখাতে অতীতের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর অবদান স্মরণ করা হয়। তার সময় শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
এছাড়া আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা-এর বিভিন্ন কনভেনশন অনুমোদন করেছে। শ্রমিক অধিকার, নিরাপত্তা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করতে সংস্থাটির সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
মে দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শ্রমিকদের মজুরি, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধা সময়মতো পরিশোধের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি নারী-পুরুষ সমান মজুরি নিশ্চিতকরণ এবং শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করার ওপর জোর দেওয়া হয়। প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ হিসেবে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে, যা তাদের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা টেকসই করতে হলে শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং কর্মপরিবেশের উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় আইন প্রয়োগ এবং কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থাও জোরদার করতে হবে।
বার্তার শেষাংশে বলা হয়, শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করা গেলে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর এবং মানবিক বাংলাদেশ গঠন সম্ভব। সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
মে দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করা হয়েছে এবং দেশের সকল শ্রমজীবী মানুষের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা করা হয়েছে।



ফেসবুকে আমরা