August 28, 2026, 9:55 am
শিরোনাম:
মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান সালাহউদ্দিন আহমদের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ মাদক সেবন বাধা দেয়ায় রংপুরে শিক্ষকসহ একই পরিবারের ৪ জন হত্যা ইমাম-মুয়াজ্জিনের সম্মানি ভাতা নিয়ে ‘আর্থিক লেনদেনের’ অভিযোগ, বিএনপি নেতাকে শোকজ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন আজ সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কে হচ্ছে ২৩ তম রাষ্ট্রপতি, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ফখরুল-অলির লড়াই আজ ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ সফল করতে জামায়াতের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত ঢাকার সড়কে আজ নামছে নারীদের জন্য ‘পিংক বাস চালক-কন্ডাক্টরও নারী

মে দিবস ২০২৬: শ্রমিকের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণে নতুন প্রত্যয়ের বার্তা

আইয়ুব আলী

মে দিবস ২০২৬: শ্রমিকের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণে নতুন প্রত্যয়ের বার্তা

আইয়ুব আলী। রংপুর
১ মে ২০২৬: বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস বা মে দিবস ২০২৬। এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত”। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে আলোচনা সভা, র‍্যালি ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।
মে দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক শুভেচ্ছা বার্তায় দেশের শ্রমজীবী ও কর্মজীবী মানুষের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়েছে। বার্তায় বলা হয়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং অবকাঠামোগত অগ্রগতির পেছনে শ্রমিকদের অবদান অপরিসীম। তাদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই একটি দেশের সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ে ওঠে।
ঐতিহাসিকভাবে, ১৮৮৬ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেট আন্দোলন-এ ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মে দিবসের সূচনা হয়। সেই আন্দোলনে যারা আত্মত্যাগ করেছিলেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এই দিবসটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি একটি রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এ লক্ষ্যেই শ্রমবান্ধব নীতি গ্রহণ, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
শ্রমখাতে অতীতের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর অবদান স্মরণ করা হয়। তার সময় শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
এছাড়া আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা-এর বিভিন্ন কনভেনশন অনুমোদন করেছে। শ্রমিক অধিকার, নিরাপত্তা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করতে সংস্থাটির সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
মে দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শ্রমিকদের মজুরি, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধা সময়মতো পরিশোধের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি নারী-পুরুষ সমান মজুরি নিশ্চিতকরণ এবং শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করার ওপর জোর দেওয়া হয়। প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ হিসেবে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে, যা তাদের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা টেকসই করতে হলে শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং কর্মপরিবেশের উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় আইন প্রয়োগ এবং কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থাও জোরদার করতে হবে।
বার্তার শেষাংশে বলা হয়, শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করা গেলে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর এবং মানবিক বাংলাদেশ গঠন সম্ভব। সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
মে দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করা হয়েছে এবং দেশের সকল শ্রমজীবী মানুষের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা করা হয়েছে।



ফেসবুকে আমরা