October 8, 2026, 10:37 pm
শিরোনাম:
পার্বতীপুরে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত বীরগঞ্জে ধান ক্ষেত থেকে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার বীরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহ, লিফলেট বিতরণ ও ব্লিচিং পাউডার ছিটানো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ পার্বতীপুরে এলপিজির বাড়তি দাম,দুই প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা পার্বতীপুরে বিদ্যুতের তার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশনে ৩ ও ৪ নং প্ল্যাটফর্মের ওভারব্রিজ জরাজীর্ণ: চরম ঝুঁকিতে পথচারী ও যাত্রীরা পার্বতীপুরে ৮৫০ পিস এ্যাম্পল ইনজেকশনসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার পার্বতীপুরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী আটক ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের বিল ৫০৬ কোটি টাকা, বরখাস্ত পল্লী বিদ্যুতের জিএম

প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ডিজিটাল কারসাজিতে সর্বোচ্চ ৫ বছরের জেল, জাতীয় সংসদে নতুন আইন পাস

আইয়ুব আলী

প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ডিজিটাল কারসাজিতে সর্বোচ্চ ৫ বছরের জেল, জাতীয় সংসদে নতুন আইন পাস

আইয়ুব আলী। রংপুর
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ পাসের জন্য উত্থাপন করেন। বিলটির ওপর আনা জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তির পর কণ্ঠভোটে এটি পাস হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সময়ের প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের ধরন বিবেচনায় নিয়ে আইনের বিভিন্ন ধারা সংশোধন করা হয়েছে। বিশেষ করে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষার তথ্যভান্ডারে অনধিকার প্রবেশ এবং তথ্য বিকৃত করার মতো কর্মকাণ্ডকে স্পষ্টভাবে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

বিদ্যমান আইনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল ১০ বছরের কারাদণ্ড। তবে নতুন সংশোধিত আইনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধের ধরন অনুযায়ী অর্থদণ্ডও আরোপ করা যাবে।

নতুন আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ বা ডিজিটাল কারসাজির সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা। বিলে বলা হয়েছে, পাবলিক পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডেটাবেইসে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ, হ্যাকিং, তথ্য পরিবর্তন, সংশোধন, মুছে ফেলা অথবা গোপন করার মতো যেকোনো কার্যক্রম ডিজিটাল কারসাজি হিসেবে গণ্য হবে।

আইন অনুযায়ী, কেউ যদি পরীক্ষার তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো বা ডেটাবেইসের ওপর এ ধরনের হস্তক্ষেপ করে, তাহলে তাকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। শিক্ষা খাতের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই বিধান কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা জোরদার করতে নতুন কিছু বিধানও যুক্ত করা হয়েছে। বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, পরীক্ষাকেন্দ্রে নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ করা বা প্রবেশের চেষ্টা করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে পরীক্ষা পরিচালনা-সংক্রান্ত বৈধ নির্দেশনা অমান্য করলেও অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

সংশোধিত আইনে এসব অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ফলে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ এবং সুষ্ঠু পরীক্ষা গ্রহণে প্রশাসনের সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার বিভিন্ন ঘটনা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ প্রায়ই সামনে এসেছে। নতুন আইনের মাধ্যমে এসব অপরাধ দমনে আরও সুস্পষ্ট আইনি কাঠামো তৈরি হলো।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, এর কার্যকর প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হবে। পরীক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত সব প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা জোরদার করা, পরীক্ষাকেন্দ্রে কঠোর নজরদারি বৃদ্ধি করা এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা গেলে নতুন আইনের সুফল পাওয়া সম্ভব হবে।

নতুন এই সংশোধনী আইনের মাধ্যমে সরকার পাবলিক পরীক্ষার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বার্তা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, আইনটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ডিজিটাল কারসাজির মতো অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।



ফেসবুকে আমরা