রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এক মাসের মধ্যে পূর্ণ সিসিটিভি নজরদারিতে: ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু
আইয়ুব আলী। রংপুর
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে আগামী এক মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। একই সঙ্গে হাসপাতালটির বিভিন্ন সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী ও স্বজনদের সেবা দিয়ে আসছে। কিন্তু এত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতাল চত্বরে চুরি, ছিনতাই ও বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগ প্রায়ই পাওয়া যায়। এসব সমস্যা মোকাবিলায় আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, আগামী এক মাসের মধ্যে হাসপাতালের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান, প্রবেশপথ, ওয়ার্ডের আশপাশ, বহির্বিভাগ এবং হাসপাতাল প্রাঙ্গণের বিভিন্ন অংশ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। এতে হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদার হওয়ার পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং রোগী ও স্বজনদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শুধু রংপুর বিভাগের মানুষের জন্য নয়, উত্তরাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসাস্থল। অথচ এখানে এখনো পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়নি। ফলে অনেক সময় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতাল এলাকায় চুরি ও ছিনতাই প্রতিরোধে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জারও প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পুরো মেডিকেল ক্যাম্পাসে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বাতি স্থাপন করা হবে। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং অপেক্ষাকৃত অন্ধকার এলাকাগুলোকে আলোকিত করার মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো হবে।
মন্ত্রী জানান, শুধু নিরাপত্তা নয়, হাসপাতাল প্রাঙ্গণের পরিবেশ উন্নয়নেও কাজ করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা রয়েছে, যা রোগী, স্বজন এবং হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি করে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এই সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া হাসপাতাল চত্বরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি। মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের সেবার পরিবেশ উন্নত করতে এবং রোগীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে অবৈধ দখলমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি।
এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনকে প্রয়োজনীয় দায়িত্ব দেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অবৈধ স্থাপনা অপসারণে স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন সমন্বিতভাবে কাজ করবে। হাসপাতালকে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ এবং আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
স্থানীয়রা মনে করছেন, ঘোষিত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা ও সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে সিসিটিভি নজরদারি এবং পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা চালু হলে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অনেকাংশে কমে আসবে।
রোগী ও স্বজনদের প্রত্যাশা, ঘোষণার মধ্যেই উদ্যোগ সীমাবদ্ধ না থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে। কারণ উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের চিকিৎসাসেবার সঙ্গে জড়িত এই হাসপাতালের উন্নয়ন শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন নয়, বরং পুরো অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত।
সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিরাপত্তা, অবকাঠামো এবং সেবার মানের দিক থেকে নতুন মাত্রা অর্জন করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করেছে।