বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট ২০২৬) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হন। ভোট গণনা শেষে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন ফলাফল ঘোষণা করেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। এর মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫০ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় বিরোধী জোটের প্রার্থী ও এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। এছাড়া ১১টি ভোট বাতিল হয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় ভোট পেয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোটগ্রহণ চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেন। ভোটগ্রহণ শেষে ব্যালট গণনা করে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ১৯৯১ সালের পর জাতীয় সংসদে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবারই প্রথম বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুলের জয়ের সম্ভাবনা আগে থেকেই জোরালো ছিল।
রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রায় ১৬ বছর দলটির মহাসচিব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দায়িত্বে ছিলেন। রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরাও তাঁকে অভিনন্দন জানান।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন, রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে তিনি ইনসাফ, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রাখবেন।
নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন নেতা দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হওয়ার পথে এগিয়ে গেলেন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শুক্রবার (২১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাঁর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হলো।