August 25, 2026, 9:39 pm
শিরোনাম:
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ মাদক সেবন বাধা দেয়ায় রংপুরে শিক্ষকসহ একই পরিবারের ৪ জন হত্যা ইমাম-মুয়াজ্জিনের সম্মানি ভাতা নিয়ে ‘আর্থিক লেনদেনের’ অভিযোগ, বিএনপি নেতাকে শোকজ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন আজ সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কে হচ্ছে ২৩ তম রাষ্ট্রপতি, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ফখরুল-অলির লড়াই আজ ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ সফল করতে জামায়াতের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত ঢাকার সড়কে আজ নামছে নারীদের জন্য ‘পিংক বাস চালক-কন্ডাক্টরও নারী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রতিবাদী মিছিলে হবিগঞ্জে মাহদী হাসান আটক

মাদক সেবন বাধা দেয়ায় রংপুরে শিক্ষকসহ একই পরিবারের ৪ জন হত্যা

আইয়ুব আলী

রংপুরে শিক্ষকসহ একই পরিবারের ৪ জন হত্যা

রংপুরে সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক সেবনের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই অভিযুক্ত স্বীকার করেছে।

ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের নাম উঠে এসেছে। পুলিশের দাবি, শুক্রবার ভোররাতে ওই পরিবারের বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনের সময় গণপতি চক্রবর্তী তাদের দেখে ফেলেন। বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করে অভিযুক্তরা। পরে একে একে পরিবারের আরও তিন সদস্যকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের ভাষ্য।

জানা গেছে, পাশের বাড়ির ছাদ টপকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যাতায়াত করত অভিযুক্তরা। ঘটনার দিন ভোররাতে ছাদে শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী সেখানে গেলে তিনি অভিযুক্ত দুজনকে মাদক সেবনরত অবস্থায় দেখতে পান। তাঁকে দেখে ফেলায় বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অভিযুক্তরা তাঁর ওপর হামলা চালায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ধস্তাধস্তির শব্দ পেয়ে তাঁর স্ত্রী ছাদে গেলে তাকেও একইভাবে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ।

এরপর বাবা-মায়ের কোনো সাড়া না পেয়ে তাঁদের বড় মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ছাদে যান। তিনি কারমাইকেল কলেজের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। পুলিশের দাবি, তাকেও গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে পরিবারের ছোট ছেলে প্রিয়মকেও হত্যা করা হয়।

প্রিয়ম ছিল রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রিয়ম অভিযুক্তদের চিনত এবং তাদের সঙ্গে পরিচয় ছিল। এ কারণে সে তাদের শনাক্ত করতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই তাকেও হত্যা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা জানিয়েছে।

এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে পরিবারের ছোট সদস্য প্রিয়মের হত্যার বিষয়টি। মাত্র ১০ বছর বয়সী শিশুটিও এই নৃশংসতার হাত থেকে রক্ষা পায়নি। পুলিশ বলছে, হত্যার পর শিশুটির মরদেহ খাটের নিচে ফেলে রাখা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, চারজনকে হত্যার পরও অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে সঙ্গে সঙ্গে পালিয়ে যায়নি। বরং তারা বাড়ির ভেতর অবস্থান করে। এমনকি হত্যাকাণ্ডের পর তারা বাড়ির একটি ওয়াশরুম ব্যবহার করে এবং খাবার খায় বলে পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, তাদের কাছে থাকা ইয়াবাও পরে সেবন করে অভিযুক্তরা। এরপর ঘটনাটিকে ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা হিসেবে ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো করা হয়। একপর্যায়ে বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

পরবর্তীতে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় বাইরে মানুষের চলাচল কমে গেলে অভিযুক্তরা ছাদ টপকে পাশের বাড়ির দিকে চলে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। পালিয়ে যাওয়ার সময় চুরি করা কিছু সামগ্রী পাশের একটি মন্দিরের পেছনে লুকিয়ে রাখার কথাও তদন্তে উঠে এসেছে।

ঘটনার পর বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একই পরিবারের চারজন মানুষকে এমন নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

তদন্তকারীরা বলছেন, ঘটনাটির পেছনে মাদকাসক্তি, অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা এবং পরে লুটপাটের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের দেওয়া বক্তব্য যাচাই করতে তদন্তের অন্যান্য তথ্য-প্রমাণও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া বক্তব্যই চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, কারা সরাসরি জড়িত এবং কীভাবে পুরো ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ায় নিশ্চিত হবে।

একটি পরিবারের চার সদস্যকে হারানোর ঘটনায় রংপুরজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্য প্রিয়মের হত্যার ঘটনায় মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

মাদক যে শুধু একজন ব্যক্তির জীবন নয়, একটি পরিবার ও পুরো সমাজকে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, এই ঘটনাকে ঘিরে সেই প্রশ্নই আবার সামনে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে আদালতের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

এদিকে, ঘটনার পর থেকে এলাকায় নিরাপত্তা ও মাদক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য দ্রুত উদঘাটন হবে এবং এমন নৃশংস ঘটনা যেন আর কোনো পরিবারের জীবনে নেমে না আসে, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



ফেসবুকে আমরা