October 11, 2026, 4:46 am
শিরোনাম:
পার্বতীপুরে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত বীরগঞ্জে ধান ক্ষেত থেকে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার বীরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহ, লিফলেট বিতরণ ও ব্লিচিং পাউডার ছিটানো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ পার্বতীপুরে এলপিজির বাড়তি দাম,দুই প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা পার্বতীপুরে বিদ্যুতের তার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশনে ৩ ও ৪ নং প্ল্যাটফর্মের ওভারব্রিজ জরাজীর্ণ: চরম ঝুঁকিতে পথচারী ও যাত্রীরা পার্বতীপুরে ৮৫০ পিস এ্যাম্পল ইনজেকশনসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার পার্বতীপুরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী আটক ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের বিল ৫০৬ কোটি টাকা, বরখাস্ত পল্লী বিদ্যুতের জিএম

জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা কোথায়?

সৌরভ উজ্জামান,ঢাকা

জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা কোথায়?

সৌরভ উজ্জামান,ঢাকা
দেশজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ছিনতাই, খুন ও নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলার শহর ও গ্রামাঞ্চলেও এখন সাধারণ মানুষের প্রধান উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপত্তা। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ছিনতাই, হামলা, খুন কিংবা ডাকাতির খবর প্রকাশ পাচ্ছে। এতে মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা।

বিশেষ করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, অলিগলি ও নির্জন সড়কে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ সন্ধ্যার পর বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। রাতের পাশাপাশি দিনের বেলাতেও ঘটছে ভয়ঙ্কর সব অপরাধ। অফিসফেরত কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, পরিবহন চালক এমনকি সাধারণ পথচারীরাও প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনেক সময় প্রকাশ্যে ছিনতাই কিংবা হামলার ঘটনা ঘটলেও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যায় না। কোথাও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে, কোথাও মোটরসাইকেল আটকে টাকা-পয়সা লুট করা হচ্ছে, আবার কোথাও সামান্য প্রতিবাদ করলেই হামলার শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও ঘটনার বর্ণনা মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

অনেক পরিবার বলছে, এখন সন্তানদের একা বাইরে পাঠাতেও ভয় লাগে। রাতে জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতাল, কর্মস্থল কিংবা ভ্রমণে বের হলেও পরিবারকে আতঙ্কে থাকতে হয়। অনেকের মতে, অপরাধীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি সংঘবদ্ধ ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি চোখে পড়লেও অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেকারত্ব, মাদক, সামাজিক অবক্ষয় এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের অভাব— এসব কারণেও অপরাধ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তারও উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

রাজধানীর কয়েকজন বাসিন্দা জানান, আগে রাতে কিছুটা সতর্ক থাকলেই চলাফেরা করা যেত, কিন্তু এখন দিনের বেলাতেও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নেই। অনেকেই বলছেন, রাস্তায় বের হলে মোবাইল ফোন কিংবা টাকা-পয়সা নিয়ে সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। গণপরিবহনেও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু অভিযান চালিয়ে সাময়িকভাবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। অপরাধ দমনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নিয়মিত টহল, সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় বেশি অপরাধ হচ্ছে, সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন নাগরিকরা।

এছাড়া সচেতন মহল মনে করছে, পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও অপরাধ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে হবে। তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

সাধারণ মানুষের একটাই প্রত্যাশা— নিরাপদে বাঁচার অধিকার নিশ্চিত হোক। মানুষ যেন ভয় নয়, স্বস্তি নিয়ে রাস্তায় চলাফেরা করতে পারে। দিনশেষে পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরতে পারাটাই এখন দেশের কোটি মানুষের সবচেয়ে বড় চাওয়া।



ফেসবুকে আমরা