ইসলামের বাণী পৌঁছে দেওয়াই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: মিয়া গোলাম পরওয়ার
আইয়ুব আলী
প্রবাসী ঐক্য মালয়েশিয়ায় আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ইসলামের দাওয়াতকে জীবনের সর্বোচ্চ দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ইসলামের বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া শুধু একটি আনুষ্ঠানিক কাজ নয়, বরং এটি মুসলমানদের সবচেয়ে বড় মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব।
ইসলামী দাওয়াহ সার্কেল মালয়েশিয়ার উদ্যোগে কুয়ালালামপুরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি প্রবাসীদের মধ্যে ইসলামী মূল্যবোধ, সামাজিক ঐক্য এবং দাওয়াতি চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. আবু আবদুল্লাহ এবং সঞ্চালনা করেন সৈয়দ মোবাস্বীর হোসাইন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ড. ইউসুফ আলী এবং হাফেজ এনামুল হক।
দাওয়াতকে জীবনের মিশন হিসেবে গ্রহণের আহ্বান
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একজন মুসলমানের জীবনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তিনি উল্লেখ করেন, দাওয়াত শুধু বক্তৃতা বা আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি একটি ধারাবাহিক জীবনব্যাপী দায়িত্ব, যা ব্যক্তি ও সমাজকে নৈতিকভাবে উন্নত করে।
তিনি বলেন, যখন একজন মানুষ দাওয়াতকে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে, তখন তার আচরণ, চিন্তাভাবনা ও নৈতিক মানদণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। ধৈর্য, সততা, বিনয় এবং দায়িত্ববোধ তার চরিত্রে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রবাসীদের ভূমিকা ও সামাজিক দায়িত্ব
অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতির একটি বড় শক্তি। তাদের মেধা, দক্ষতা এবং আর্থিক সক্ষমতা শুধু ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্য নয়, বরং একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের জন্যও ব্যবহার করা উচিত।
তিনি প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রবাসে শক্তিশালী কমিউনিটি গড়ে তুললে সামাজিক সমস্যা মোকাবিলা করা সহজ হয় এবং দেশের উন্নয়নেও কার্যকর অবদান রাখা সম্ভব হয়।
রেমিট্যান্স ও অর্থনৈতিক দায়িত্ব
বিশেষ অতিথি ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি প্রবাসীদের বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বৈধ পথে অর্থ প্রেরণ দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করে এবং জাতীয় উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে।
তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা এবং দেশে ফিরে আসা নাগরিকদের পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এতে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে।
ইসলামী দাওয়াহ কার্যক্রমের গুরুত্ব
সভাপতির বক্তব্যে ড. আবু আবদুল্লাহ বলেন, ইসলামী দাওয়াহ সার্কেল মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীদের মধ্যে নৈতিক শিক্ষা, ঐক্য এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, এই ধরনের সংগঠন প্রবাসীদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, ইসলামী দাওয়াতি কার্যক্রম শুধু ধর্মীয় বিষয় নয়; বরং এটি সামাজিক শৃঙ্খলা, মানবিকতা এবং নৈতিক উন্নয়নের একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
প্রবাসী সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের আহ্বান
বক্তারা বলেন, প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, নৈতিকতা এবং দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি করা জরুরি। তারা মনে করেন, দাওয়াতি কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করা গেলে প্রবাসী সমাজে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরাও মত দেন যে, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসীদের মধ্যে ধর্মীয় চেতনা, সামাজিক ঐক্য এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
উপসংহার
সবশেষে বলা হয়, ইসলামের দাওয়াতকে জীবনের মূল মিশন হিসেবে গ্রহণ করলে ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ই উপকৃত হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের মেধা, শ্রম ও সম্পদকে ব্যবহার করে একটি সুন্দর, নৈতিক ও কল্যাণময় সমাজ গঠনে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। ![]()