ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে হারাগাছ পৌরসভায় জমজমাট গরু-ছাগল ও মহিষের হাট
আইয়ুব আলী। রংপুর
নতুন কমিটির ব্যবস্থাপনায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাঝে স্বস্তি
ঈদুল আযহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসবকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো রংপুরের হারাগাছ পৌরসভাতেও বসেছে জমজমাট গরু, ছাগল ও মহিষের হাট। হারাগাছ থানা সংলগ্ন এই পশুর হাটে প্রতিদিনই ভিড় বাড়ছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের। বিশেষ করে কোরবানির পশু কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকাজুড়ে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন পর এবার পুরাতন কমিটি পরিবর্তন করে নতুন কমিটির মাধ্যমে হাট পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই হাটে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। ফলে সাধারণ ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মাঝেও দেখা দিয়েছে স্বস্তি ও সন্তুষ্টি।
প্রতিদিন ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাকভর্তি গরু, ছাগল ও মহিষ আসতে শুরু করে হাটে। স্থানীয় খামারিদের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীরাও তাদের পশু নিয়ে আসছেন এখানে। হাটে দেশি গরুর পাশাপাশি উন্নত জাতের গরুও দেখা যাচ্ছে। আকার ও জাতভেদে পশুর দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। ছোট গরু ৭০ থেকে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও বড় আকারের গরুর দাম উঠছে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত। একইভাবে ছাগল ও মহিষের বাজারেও রয়েছে ব্যাপক চাহিদা।
হাটে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, আগের তুলনায় এবার পরিবেশ অনেক ভালো। নতুন কমিটি হাটে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করেছে। এছাড়াও যানজট নিরসন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পশু রাখার স্থান নির্ধারণ করায় স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাবেচা করা যাচ্ছে।
বিক্রেতারাও সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আগে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা থাকলেও এবার হাটে অনেক নিয়ম-কানুন মেনে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। চাঁদাবাজি বা অতিরিক্ত হয়রানির অভিযোগও তুলনামূলক কম। নতুন কমিটির সদস্যরা সার্বক্ষণিক মাঠে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, তারা একটি সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পশুর হাট গড়ে তুলতে কাজ করছেন। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে হাট পরিচালনা করা হচ্ছে। হাটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতাও নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পশু পরিবহনে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব থাকলে একটি পশুর হাট শুধু কেনাবেচার স্থান নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে এই হাটে কোটি টাকার পশু কেনাবেচা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে হাটকে ঘিরে আশপাশের ব্যবসায়ীদের মধ্যেও প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। খাবারের দোকান, পশুখাদ্য বিক্রেতা, পরিবহন শ্রমিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের আয় বাড়ছে এই মৌসুমে। ফলে পশুর হাট স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সবমিলিয়ে বলা যায়, নতুন কমিটির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হারাগাছ পৌরসভা থানা সংলগ্ন গরু-ছাগল ও মহিষের হাট এবার ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে একটি সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও প্রাণবন্ত হাটে পরিণত হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতি এবং প্রাণচাঞ্চল্যে প্রতিদিনই মুখর হয়ে উঠছে পুরো এলাকা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে হারাগাছের এই পশুর হাট উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ও জনপ্রিয় হাট হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।