August 26, 2026, 9:02 pm
শিরোনাম:
মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান সালাহউদ্দিন আহমদের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ মাদক সেবন বাধা দেয়ায় রংপুরে শিক্ষকসহ একই পরিবারের ৪ জন হত্যা ইমাম-মুয়াজ্জিনের সম্মানি ভাতা নিয়ে ‘আর্থিক লেনদেনের’ অভিযোগ, বিএনপি নেতাকে শোকজ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন আজ সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কে হচ্ছে ২৩ তম রাষ্ট্রপতি, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ফখরুল-অলির লড়াই আজ ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ সফল করতে জামায়াতের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত ঢাকার সড়কে আজ নামছে নারীদের জন্য ‘পিংক বাস চালক-কন্ডাক্টরও নারী

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদান অনন্য: প্রধানমন্ত্রী

আইয়ুব আলী

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদান অনন্য: প্রধানমন্ত্রী

আইয়ুব আলী, রংপুর
বিশ্বের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা, মানবিক সহায়তা প্রদান এবং স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদান অনন্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা দেশের মর্যাদা ও সুনাম বিশ্বব্যাপী আরও সুদৃঢ় করেছেন।

বুধবার (১০ জুন) ঢাকা সেনানিবাসে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তারা শুধু শান্তি প্রতিষ্ঠাই করেননি, বাংলাদেশের পতাকাকেও সম্মানের সঙ্গে সমুন্নত রেখেছেন।”

তিনি শান্তিরক্ষা মিশনে আত্মোৎসর্গকারী সদস্যদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ তাঁদের এই আত্মত্যাগ কখনো ভুলবে না।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের চ্যালেঞ্জ দিন দিন জটিল হচ্ছে। সন্ত্রাসবাদ, জলবায়ুজনিত সংকট, মানবিক বিপর্যয় এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় শান্তিরক্ষীদের আরও দক্ষ ও আধুনিক হতে হবে। এ জন্য সরকার সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নারী শান্তিরক্ষীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়। তাঁদের দক্ষতা ও নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম বৃহৎ অবদানকারী দেশ হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। ভবিষ্যতেও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার এই প্রয়াসে বাংলাদেশ সক্রিয় অংশীদার হিসেবে কাজ করে যাবে।

অনুষ্ঠানে শান্তিরক্ষা মিশনে শহীদ সদস্যদের স্মরণে বিশেষ মোনাজাত ও নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বিশেষ অবদানের জন্য কয়েকজন সদস্যকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের সাফল্য ও অর্জন তুলে ধরে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, কূটনীতিক, জাতিসংঘের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন না, স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মানবিক সহায়তার মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাঁদের এই অবদান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশকে একটি শান্তিপ্রিয় ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসূচি পালিত হয়। বাংলাদেশও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে থাকে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি সদস্যরা নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।



ফেসবুকে আমরা