ইস্ট লন্ডনে হাসনাত আব্দুল্লাহর সভার সামনে বিক্ষোভ ও ডিম নিক্ষেপ, উত্তেজনা
আইয়ুব আলী, রংপুর
যুক্তরাজ্যের ইস্ট লন্ডনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহর এক সভাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি পরে নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ইস্ট লন্ডনের একটি মিলনায়তনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় যোগ দিতে যান হাসনাত আব্দুল্লাহ। সভা শুরুর আগে মিলনায়তনের বাইরে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সমর্থক পরিচয়ধারী কয়েকজন নেতাকর্মী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন এবং একপর্যায়ে সভাস্থলের প্রবেশমুখের দিকে ডিম নিক্ষেপ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলেও কোনো বড় ধরনের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানান। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় অংশগ্রহণকারী কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি জানান, গণতান্ত্রিক সমাজে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সবার রয়েছে। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও সহিংস আচরণ বা বিশৃঙ্খলা কাম্য নয়। তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে রাজনৈতিক আলোচনা ও মতবিনিময়ের পক্ষে মত দেন।
অন্যদিকে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন দাবি করেন, তারা নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরতে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলেন। তবে ডিম নিক্ষেপের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ বিষয়ে তারা সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওগুলোতে সভাস্থলের বাইরে স্লোগান, বিক্ষোভ এবং উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি দেখা যায়। এসব ভিডিও নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যেও দৃশ্যমান হচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যে মতবিরোধ ও পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ঘটনা আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে যুক্তরাজ্যের মতো দেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে আইন ও শৃঙ্খলা মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হাসনাত আব্দুল্লাহর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকতেই পারে, তবে সভা-সমাবেশে বাধা সৃষ্টি কিংবা উসকানিমূলক আচরণ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।
অপরদিকে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়, তারা নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার জন্য বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা তাদের উদ্দেশ্য ছিল না বলেও তারা উল্লেখ করেন।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ ঘটনাটিকে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, আবার কেউ এটিকে প্রবাসী রাজনীতির চলমান উত্তেজনার অংশ বলে মন্তব্য করেছেন।
তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো ব্যক্তি আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছেও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার তথ্য মেলেনি। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।