দেশি পণ্য ব্যবহারে কৃষক-উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার আহ্বান এমপি হাঞ্জালার
আইয়ুব আলী। রংপুর
দেশের কৃষক, উৎপাদক ও দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াতে দেশি পণ্য ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন এমপি হাঞ্জালা। তিনি বলেছেন, দেশের মানুষের তৈরি পণ্যই হওয়া উচিত দেশের মানুষের প্রথম পছন্দ। দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে কৃষক ও উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
এমপি হাঞ্জালা বলেন, একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সেই দেশের উৎপাদন ব্যবস্থা ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সাফল্য সরাসরি জড়িত। দেশের মানুষ যদি নিজেদের দেশের উৎপাদিত পণ্য কেনা ও ব্যবহারে আগ্রহী হয়, তাহলে এর সুফল সরাসরি দেশের কৃষক, শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছাবে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতির ভেতরেও অর্থের প্রবাহ বাড়বে।
তিনি বলেন, দেশের কৃষকরা দিনরাত পরিশ্রম করে বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদন করেন। মাঠে ফসল ফলানো থেকে শুরু করে সেই পণ্য বাজারে পৌঁছানো পর্যন্ত কৃষকদের নানা ধরনের প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, বাজারজাতকরণে সমস্যা এবং অনেক ক্ষেত্রে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। তাই কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ানো প্রয়োজন।
এমপি হাঞ্জালা আরও বলেন, কৃষকের উৎপাদিত পণ্য শুধু একটি পণ্য নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি পরিবারের জীবন-জীবিকা। একজন কৃষক যখন তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান, তখন তার পরিবার উপকৃত হয়। পাশাপাশি স্থানীয় বাজার, পরিবহন, ব্যবসা ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও সচল থাকে। এ কারণে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য কেনার মধ্য দিয়ে একজন ভোক্তাও দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
দেশীয় উদ্যোক্তাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা নিজেদের মেধা, শ্রম ও বিনিয়োগ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরি করছেন। অনেকেই স্বল্প পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করে ধীরে ধীরে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছেন। কিন্তু বাজারে প্রতিযোগিতা এবং ভোক্তাদের পছন্দের কারণে অনেক উদ্যোক্তাকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। দেশীয় পণ্যের প্রতি মানুষের আস্থা ও আগ্রহ বাড়লে এসব উদ্যোক্তা আরও বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানোর সবচেয়ে সহজ উপায়গুলোর একটি হলো তাদের তৈরি পণ্য ব্যবহার করা। কোনো পণ্যের মান ভালো হলে শুধু বিদেশি ব্র্যান্ডের প্রতি আকৃষ্ট না হয়ে দেশের উদ্যোক্তার তৈরি পণ্যকেও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। এতে উদ্যোক্তারা নতুন পণ্য তৈরিতে উৎসাহ পাবেন এবং ভবিষ্যতে আরও মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এমপি হাঞ্জালা বলেন, দেশীয় পণ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়াতে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে সাধারণ ভোক্তা, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, কৃষক ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দেশীয় পণ্যের মান উন্নয়ন, সঠিক বাজারব্যবস্থা এবং ভোক্তাদের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন শুধু বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে না। গ্রামের কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কারিগর, নারী উদ্যোক্তা এবং ছোট ছোট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানও দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে সঠিকভাবে পৌঁছাতে পারলে স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।
দেশি পণ্য ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন এমপি হাঞ্জালা। তাঁর মতে, শিশু-কিশোর ও তরুণদের মধ্যেও দেশীয় পণ্যের প্রতি আগ্রহ তৈরি করা প্রয়োজন। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলো এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, দেশীয় পণ্য ব্যবহার কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিষয়। দেশের উৎপাদকরা যত বেশি পণ্য তৈরি করার সুযোগ পাবেন, তত বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। উৎপাদন বাড়লে বাজার সম্প্রসারিত হবে এবং দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
সবশেষে এমপি হাঞ্জালা দেশের মানুষের প্রতি দেশীয় পণ্য ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দেশের পণ্য, দেশের মানুষের অধিকার।’ দেশের মানুষের তৈরি পণ্যকে প্রথম পছন্দ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। দেশি পণ্য ব্যবহার করতে হবে, দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য বাজার নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের মানুষ যদি দেশীয় পণ্য ব্যবহারে আরও সচেতন ও আগ্রহী হয়, তাহলে স্থানীয় উৎপাদন বাড়বে, কৃষক ও উদ্যোক্তারা লাভবান হবেন এবং এর মাধ্যমে একটি আত্মনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথ আরও সুগম হবে।