বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রতিবাদী মিছিলে হবিগঞ্জে মাহদী হাসান আটক
হবিগঞ্জে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রতিবাদে আয়োজিত মিছিলে অংশ নিতে গিয়ে জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব মাহদী হাসানকে পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদ প্রাঙ্গণে ‘সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে প্রতিবাদী মিছিলের জন্য জড়ো হন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ সময় মিছিলে অংশ নিতে আসা জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব মাহদী হাসানসহ কয়েকজনকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন, লোডশেডিং এবং জ্বালানি সংকটের প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে হবিগঞ্জ শহরে এ প্রতিবাদী মিছিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সোমবার বিকেল থেকেই কোর্ট মসজিদ প্রাঙ্গণে ছাত্র-জনতা জড়ো হতে শুরু করেন। নির্ধারিত সময়ের দিকে মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি বাড়ে। একপর্যায়ে মাহদী হাসানকে পুলিশ হেফাজতে নেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, মাহদী হাসান মিছিলে অংশ নেওয়ার জন্য কোর্ট মসজিদ এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় পুলিশ তাকে সেখান থেকে নিয়ে যায়। তবে তাকে কেন আটক করা হয়েছে, এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাহদী হাসানকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে থাকা নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন। কোর্ট মসজিদ প্রাঙ্গণসহ আশপাশের এলাকায় কিছু সময় সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশ।
আয়োজকদের দাবি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ যে ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন, তার প্রতিবাদ জানাতেই শান্তিপূর্ণভাবে মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। কর্মসূচিতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য ছিল না। কিন্তু মিছিল শুরুর আগেই মাহদী হাসানকে পুলিশ নিয়ে যাওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তাদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরতে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাহদী হাসানকে কেন আটক করা হয়েছে, সেটিও স্পষ্ট করার দাবি জানান তারা।
অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ যেকোনো কর্মসূচিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে মাহদী হাসানকে আটকের সুনির্দিষ্ট কারণ, তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ রয়েছে কি না কিংবা তাকে কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, মাহদী হাসানকে আটকের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে। তার সহকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত তার অবস্থান এবং আটকের কারণ জানার দাবি জানিয়েছেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দীর্ঘদিনের আলোচনার বিষয়। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিয়ম ও লোডশেডিংয়ের কারণে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও এর প্রভাব পড়ছে।
এমন পরিস্থিতিতে হবিগঞ্জ শহরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রতিবাদে আয়োজিত মিছিলকে ঘিরে মাহদী হাসানকে পুলিশের তুলে নেওয়ার ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে ঘটনার বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে মাহদী হাসানকে আটকের প্রকৃত কারণ এবং তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। বর্তমানে তাকে কোথায় রাখা হয়েছে এবং কখন তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।