রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ
ঢাকা, ২৫ আগস্ট ২০২৬: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখার প্রধান। মঙ্গলবার দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিন বাহিনীর প্রধানদের এই সাক্ষাৎকে গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাক্ষাতের শুরুতে তিন বাহিনীর প্রধান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান। একই সঙ্গে তারা রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে তাঁর দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা কামনা করেন।
সাক্ষাৎকালে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর নিজ নিজ কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন তিন বাহিনীর প্রধান। বাহিনীগুলোর চলমান কার্যক্রম, পেশাগত সক্ষমতা এবং সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারা।
এ সময় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি দেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে একটি আধুনিক ও চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। আধুনিক বিশ্বের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে।
রাষ্ট্রপতি তাঁর দায়িত্ব পালনকালে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাহিনীর সার্বিক উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকার কথাও এ সময় গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
তিন বাহিনীর প্রধান রাষ্ট্রপতির কাছে নিজ নিজ বাহিনীর কার্যক্রম তুলে ধরার পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে রাষ্ট্রপতির দিকনির্দেশনা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তাদের এই সাক্ষাৎ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পর্যায় এবং সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়টিও সামনে এনেছে।
বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাৎ ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সাক্ষাতের সময় দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, সশস্ত্র বাহিনীর পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাহিনীগুলোর সার্বিক উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখা দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছে। সেনাবাহিনী স্থলভাগের নিরাপত্তা, নৌবাহিনী সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা এবং বিমানবাহিনী আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্যোগ ও বিভিন্ন জাতীয় প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের নিয়মিত সমন্বয় ও মতবিনিময় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগের অংশ হিসেবেই তিন বাহিনীর প্রধানদের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি এবং সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের বিষয়টি আরও দৃশ্যমান হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎ পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সহযোগিতার পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
২৫ আগস্টের এই সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখার শীর্ষ নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হলো। ভবিষ্যতে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
দৈনিক সময় ২৪