তৃণমূল থেকে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজতে আসছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস
আইয়ুব আলী। রংপুর
দেশব্যাপী তৃণমূল পর্যায় থেকে শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে বড় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ নামে এই আয়োজনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উদীয়মান ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করে তাদের পেশাদার প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
ঐতিহ্যবাহী ‘নতুন কুঁড়ি’ অনুষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সেই সফলতার ধারাবাহিকতায় এবার ক্রীড়াঙ্গনকে আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করতে নতুনভাবে চালু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি দেশের ক্রীড়া খাতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে।
বর্তমান বিশ্বে খেলাধুলা কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি এখন একটি সম্ভাবনাময় ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রীড়াবিদদের সাফল্য প্রমাণ করেছে, সঠিক পরিচর্যা ও প্রশিক্ষণ পেলে ক্রীড়া প্রতিভা দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার খেলাধুলাকে একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং খেলোয়াড়দের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আয়োজনের মাধ্যমে বিশেষ করে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের মধ্য থেকে লুকিয়ে থাকা প্রতিভা চিহ্নিত করা হবে। নির্বাচিত প্রতিভাবানদের জন্য তৈরি করা হবে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন পরিকল্পনা, যাতে তারা ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের মেলে ধরতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সুস্থ ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সময়ে তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তি, সামাজিক অবক্ষয় এবং অতিরিক্ত প্রযুক্তি নির্ভরতা বাড়ছে। এ অবস্থায় খেলাধুলা হতে পারে একটি কার্যকর সমাধান। নিয়মিত ক্রীড়া চর্চা শিশু-কিশোরদের শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বগুণ, দলগত কাজের মানসিকতা এবং ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
সরকার ইতোমধ্যে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। রাষ্ট্রীয় ক্রীড়াবৃত্তি প্রদান, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ এর মধ্যে অন্যতম। এর ফলে দেশের ক্রীড়া খাতে একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হচ্ছে।
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর মাধ্যমে অন্বেষিত প্রতিভাগুলোকে ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে এখান থেকেই উঠে আসবে দেশের সেরা ক্রীড়া তারকারা, যারা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ কেবল ক্রীড়া উন্নয়নেই নয়, বরং দেশের সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে, যা একটি সুস্থ সমাজ গঠনে সহায়ক হবে।
পরিশেষে, সংশ্লিষ্ট মহলের বিশ্বাস—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ দেশের ক্রীড়াঙ্গনে একটি টেকসই হবে