July 18, 2026, 10:18 pm
শিরোনাম:
ক্রীড়াশক্তি, ক্রীড়ার বল—মাদকমুক্ত সমাজ গড়ো। গণঅভ্যুত্থানের হুঁশিয়ারি নাহিদ ইসলামের! জুলাই সনদ না মানলে কঠোর আন্দোলন জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬: রংপুরের শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ স্মরণে শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বগুড়ার আজিজুল হক কলেজ মাদক ব্যবসায়ীদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড সংসদে বিল পাস থইথই পানিতে ভাসছে গঙ্গাচড়া, বন্যায় অনিশ্চিত হাজারো মানুষের জীবন আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচ উন্মাদনা, সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা রংপুর জেলা স্কুল মাঠে আজ ১১ দলীয় জোটের মহাসমাবেশ রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ৮ মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু । শোক প্রকাশ জামায়াত ইসলামের প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ডিজিটাল কারসাজিতে সর্বোচ্চ ৫ বছরের জেল, জাতীয় সংসদে নতুন আইন পাস

গণঅভ্যুত্থানের হুঁশিয়ারি নাহিদ ইসলামের! জুলাই সনদ না মানলে কঠোর আন্দোলন

আইয়ুব আলী

গণঅভ্যুত্থানের হুঁশিয়ারি নাহিদ ইসলামের! জুলাই সনদ না মানলে কঠোর আন্দোলন

আইয়ুব আলী। রংপুর
শনিবার ১৮ জুলাই ২০২৬: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের দাবিতে বরিশালে বিভাগীয় সমাবেশ করেছে এগারো দলীয় জোট। সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে গণআন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
শনিবার বরিশালে অনুষ্ঠিত এই বিভাগীয় সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, জাতীয় নারীশক্তির সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা মিতু এমপি, এনপিপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম শাহীনসহ এগারো দলীয় জোটের নেতারা।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার যদি গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে, তাহলে দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবে বিরোধী জোট।
তিনি বলেন, “আমরা সারাদেশে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছি। সবশেষে ঢাকায় একটি বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যেই যদি সরকার গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে, তাহলে আমরা গণআন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যেতে বাধ্য হবো। এই মুহূর্তে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে চাই না, কিন্তু সরকার ক্রমেই পরিস্থিতিকে সেদিকে নিয়ে যাচ্ছে।”
প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী অনেক ভালো ভালো কথা বলেন। তাঁর মুখে মধু, অন্তরে ছলনা। গণভোটের আগে তিনি জুলাই সনদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফলের পর জনগণের বিপুল সমর্থন থাকা সত্ত্বেও সেই সনদ বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “মুখে বলা হচ্ছে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে, কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই। জনগণ এখন কথায় নয়, কাজে বিশ্বাস করতে চায়।”
বিএনপির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, দলটি কখনোই প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করেনি। তিনি বলেন, “বিএনপি গণতন্ত্রের জন্য নয়, ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করেছে। গণঅভ্যুত্থানের সময় তারা আমাদের সঙ্গে ছিল ক্ষমতায় যাওয়ার স্বার্থে। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে এখন তারা পরিবর্তনের কথা বলে না, সংস্কারের কথা বলে না।”
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একত্রিশ দফার প্রথম দফাতেই সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠনের কথা ছিল। অথচ আজ তারা বলছে, কখনো সংবিধান সংস্কারের কথা বলেনি। বর্তমান সরকার সংবিধান সংশোধনের নামে যে প্রহসন করছে, তা দেশের জনগণ মেনে নেবে না।”
তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধান সংশোধনের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে এবং এটি দেশের রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর করতে পারে।
বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, “বরিশালের মানুষ এখনও কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকামুখী। এই অঞ্চলে শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠেনি, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়নি। গত পাঁচ মাসে জনগণের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি, বরং চাঁদাবাজদের কর্মসংস্থান হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়ে গেছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা কর্মসংস্থান চাই, বিদ্যুতের নিশ্চয়তা চাই, সীমান্তের নিরাপত্তা চাই। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চাই। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য এবং শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আঠারো জুলাই শত শত শিক্ষার্থী প্রাণ দিয়েছেন। যখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, তখন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে এসেছিলেন। তাদের অংশগ্রহণের কারণেই কোটা আন্দোলন গণঅভ্যুত্থান থেকে বিপ্লবে রূপ নিয়েছিল।”
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আজকের এই সমাবেশ থেকে আমরা তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য আমরা সংগ্রাম চালিয়ে যাব।”
সমাবেশে বক্তারা দক্ষিণাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন প্রতিরোধ, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বেকারত্ব দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণাঞ্চল উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়েছে এবং এ অবস্থার পরিবর্তনে সরকারকে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে।
সমাবেশ শেষে নেতারা দাবি করেন, গণভোটের রায় এবং জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় দেশব্যাপী বৃহত্তর রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের দাবি আদায় করা হবে।



ফেসবুকে আমরা