কুরআন দিবস’ উপলক্ষে আবেগঘন বার্তা: শহীদদের স্মরণে যা বললেন মিয়া গোলাম পরওয়ার
আইয়ুব আলী। রংপুর
ঐতিহাসিক ১১ মে ‘কুরআন দিবস’ উপলক্ষে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, পবিত্র আল-কুরআনের মর্যাদা রক্ষায় যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগ ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
শনিবার (১০ মে) দেওয়া এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ১৯৮৫ সালে ভারতের কলকাতায় পবিত্র কুরআনের কিছু আয়াত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার উস্কানি দেয়—এমন অভিযোগ তুলে দুই ব্যক্তি কলকাতা হাইকোর্টে কুরআন বাজেয়াপ্তের দাবিতে রিট আবেদন করেন।
তিনি বলেন, এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের মধ্যে তীব্র প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশে এর প্রতিবাদে ১০ মে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরদিন ১১ মে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঈদগাহ ময়দানে স্থানীয় জনতা প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, তৎকালীন প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করলেও হাজারো মানুষ তা অমান্য করে সমাবেশে অংশ নেয়। এ সময় পুলিশের গুলিতে শীষ মোহাম্মদ, রশিদুল হক, ছাত্র সেলিম, সাহাবুদ্দীন, কৃষক আলতাফুর রহমান সবুর, রিকশাচালক মোক্তার হোসেন ও রেলশ্রমিক নজরুল ইসলামসহ আরও অনেকে নিহত হন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আন্দোলনের মুখে ভারত সরকার শেষ পর্যন্ত রিট মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় এবং কলকাতা হাইকোর্ট মামলাটি খারিজ করে দেয়।
তিনি আরও বলেন, কুরআনের মর্যাদা রক্ষায় শহীদদের স্মরণ এবং ইসলামের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই প্রতি বছর ১১ মে ‘কুরআন দিবস’ পালন করা হয়। এই দিনটি বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ ও বেদনাবিধুর অধ্যায়।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আল-কুরআন মানবজাতির মুক্তির সনদ, শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার একমাত্র নির্ভরযোগ্য দিকনির্দেশনা। পৃথিবীর কোনো অপশক্তি কুরআনের আলো নিভিয়ে দিতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না।”
বর্তমান প্রজন্মকে কুরআনের শিক্ষা, ইতিহাস ও আদর্শ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে কুরআনের আদর্শ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই দুর্নীতি, বৈষম্য, সন্ত্রাস ও নৈতিক অবক্ষয়মুক্ত কল্যাণরাষ্ট্র গঠন সম্ভব।
সবশেষে দেশবাসী ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের পবিত্র কুরআনের শিক্ষা ধারণ ও অনুশীলনের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ১১ মে’র শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন।