বরিশাল মহানগরী জামায়াতের রোকন শিক্ষা শিবির ২০২৬ অনুষ্ঠিত
দ্বীনি আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজের আহ্বান
আইয়ুব আলী, রংপুর
শিক্ষা শিবির ২০২৬ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বরিশাল মহানগরীর উদ্যোগে আজ জাঁকজমকপূর্ণ ও হৃদয়গ্রাহী পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে “রোকন শিক্ষা শিবির” ২০২৬। দিনব্যাপী আয়োজিত এ শিক্ষা শিবিরে মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের রোকন ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। ইসলামী আন্দোলনের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও আদর্শভিত্তিক করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ শিক্ষা শিবিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন মিয়া গোলাম পরোয়ার। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ইসলামি আদর্শ ও নৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক সমাজ গঠনে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, আত্মশুদ্ধি এবং জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, একটি আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন সৎ, যোগ্য ও আল্লাহভীরু নেতৃত্ব। সে লক্ষ্যেই জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। রোকনদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “দ্বীনের এই আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে হলে আত্মত্যাগ, ধৈর্য ও ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, একজন রোকনের মূল শক্তি হচ্ছে তাকওয়া, জ্ঞান এবং সাংগঠনিক দক্ষতা। ব্যক্তি গঠন ও সমাজ সংস্কারের আন্দোলনকে বেগবান করতে প্রত্যেক কর্মীকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
আরও বক্তব্য দেন ডক্টর শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলীতেও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে হবে। তিনি তরুণ প্রজন্মের মাঝে ইসলামের সঠিক শিক্ষা পৌঁছে দিতে রোকনদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
শিক্ষা শিবিরে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সংগঠনের আদর্শ, লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাশাপাশি বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইসলামী আন্দোলনের চ্যালেঞ্জ এবং করণীয় বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এ ধরনের শিক্ষা শিবির কর্মীদের আদর্শিক চেতনা ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা ভবিষ্যতেও নিয়মিত এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের দাবি জানান।
শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং ইসলামী আন্দোলনের সফলতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে এই আয়োজন কবুল হওয়ার জন্য প্রার্থনা করা হয়।