পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা: পরিবারের পাশে তারেক রহমান, দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি
আইয়ুব আলী, রংপুর
ঢাকার মিরপুরের পল্লবী এলাকায় ধর্ষণের পর হত্যার শিকার সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও আইন মন্ত্রী আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) রাতে পল্লবীর বাসায় গিয়ে শোকাহত পরিবারের খোঁজখবর নেন তারা। এ সময় রামিসার পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দেন।
রামিসার মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চঞ্চল ও হাসিখুশি স্বভাবের শিশু রামিসা কয়েকদিন আগেও পাড়ার অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করত। কিন্তু হঠাৎ তার এমন নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার পর থেকে তারা গভীর মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছেন। শিশুটির মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়েটাকে যেভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো মা সহ্য করতে পারবে না। আমি শুধু চাই অপরাধীদের কঠোর শাস্তি হোক।”
তারেক রহমান পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, শিশু রামিসার হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, এটি পুরো জাতির জন্য বেদনাদায়ক ঘটনা। তিনি বলেন, “একটি নিষ্পাপ শিশুর ওপর এমন বর্বরতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যারা এ ঘটনায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা রোধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ইতোমধ্যে দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্তের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং খুব দ্রুত মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করা হবে।
আইন মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, শিশু ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। তিনি জানান, বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। অনেকেই রামিসা হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার দাবি করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। তারা মনে করছেন, অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।
রামিসা হত্যাকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অনেকেই শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করতে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
রামিসার বাড়িতে গিয়ে তারেক রহমান কিছু সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একান্তে কথা বলেন। তিনি পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্র তাদের পাশে রয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ ঘটনার পর পল্লবী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক কমাতে অতিরিক্ত টহল ও নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত নিশ্চিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রামিসার স্বজন ও এলাকাবাসী। তাদের দাবি, কোনো ধরনের প্রভাব বা বিলম্ব ছাড়াই অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।