অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: কঠোর আইনের পথে সরকার
আইয়ুব আলী। রংপুর
ঢাকা, বুধবার: দেশে অনলাইন জুয়া ও মাদক বিস্তার রোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, এই দুইটি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে সমাজের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
বুধবার দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “জুয়া, অনলাইন জুয়া ও মাদক—এসব আমাদের অগ্রাধিকার। এগুলো বন্ধ করতেই হবে।” তিনি জানান, অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং সরকার এ বিষয়ে “শূন্য সহিষ্ণুতা” নীতি গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশেষ করে অনলাইন জুয়ার মতো সাইবারভিত্তিক অপরাধগুলো দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। “ইন্টারনেটভিত্তিক প্রযুক্তির এই দুনিয়ায় আমরা যত এগিয়ে যাচ্ছি, অপরাধও তত নতুন রূপ নিচ্ছে। তাই এসব মোকাবিলায় আমাদেরও নতুন কৌশল নিতে হচ্ছে,”—যোগ করেন তিনি।
অনলাইন জুয়ার অ্যাপস ও ওয়েবসাইট সহজলভ্য হয়ে ওঠার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকার ইতোমধ্যে এসব প্ল্যাটফর্ম বন্ধে কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, “আমরা যেভাবে পারি, সেই সাইটগুলো ব্লক করার চেষ্টা করছি। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।”
এছাড়া, অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা দ্রুত একটি কার্যকর আইন প্রণয়নের সুপারিশ করবে। নতুন এই আইন বাস্তবায়িত হলে সাইবার জগতে জুয়ার বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করছে সরকার।
মাদকবিরোধী অভিযান নিয়েও তিনি কঠোর বার্তা দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “মাদক আমাদের সমাজের জন্য ভয়াবহ হুমকি। এটি যুবসমাজকে ধ্বংস করছে এবং অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।” তিনি জানান, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় করা হয়েছে এবং সীমান্ত এলাকাগুলোতেও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অনলাইন জুয়া বর্তমানে একটি বড় সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এর প্রভাব বেশি। সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে পড়ে অনেকেই এতে জড়িয়ে পড়ছে, যা পরবর্তীতে পারিবারিক ও সামাজিক অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “আগে এসব অপরাধ এতটা বিস্তৃত ছিল না। তাই হয়তো আগের সরকারগুলো এভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করেনি। কিন্তু এখন সময় এসেছে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার।”
সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল। তারা মনে করছেন, কার্যকর আইন ও কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে অনলাইন জুয়া ও মাদক নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সব মিলিয়ে, অনলাইন জুয়া বন্ধ ও মাদক নির্মূলে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে আইনি সংস্কার ও সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাও জরুরি।