ঢাকা দক্ষিণে নতুন কৌশলে হকার পুনর্বাসন: জনদুর্ভোগ বাড়ার শঙ্কা
আইয়ুব আলী। রংপুর
রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা গুলিস্তান ও যাত্রাবাড়ীসহ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন স্থানে কিছুদিন আগেই হকার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল। এতে ফুটপাত ও সড়ক কিছুটা ফাঁকা হলেও এবার নতুন এক কৌশলে একই জায়গাগুলোতে আবার হকারদের পুনর্বাসনের কাজ চলছে বলে দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আগের মতো ফুটপাত নয়—এবার রাস্তার দুই পাশ ঘেঁষে হকারদের বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এতে করে সড়কের কার্যকর প্রস্থ কমে যাচ্ছে এবং যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এলাকায় উপস্থিত কয়েকজন দর্শক ও পথচারী বলেন, তারা এর আগে কোনো সরকার বা কোনো দেশেই এমন ধরনের হকার পুনর্বাসনের দৃশ্য দেখেননি। তাদের মতে, এই পদ্ধতিতে সাময়িকভাবে হকারদের জীবিকার ব্যবস্থা হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা জনদুর্ভোগ বাড়াতে পারে।
একজন পথচারী জানান, “ফুটপাত দখলমুক্ত করার জন্য উচ্ছেদ করা হয়েছিল, কিন্তু এখন রাস্তার দুই পাশে বসালে তো যানজট আরও বাড়বে। এতে আমাদের চলাচলই কঠিন হয়ে যাবে।”
এদিকে পরিবহন চালকরাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, রাস্তার দুই পাশে দোকান বসানো হলে গাড়ি চলাচলের জন্য জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ে, ফলে স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চালানো সম্ভব হয় না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগর ব্যবস্থাপনায় হকারদের পুনর্বাসন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে তা হতে হবে পরিকল্পিত ও নির্দিষ্ট স্থানে। সড়কের উপর বা পাশ ঘেঁষে এভাবে বসানো হলে তা নগর শৃঙ্খলার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এমন উদ্যোগ নেওয়ার আগে জনস্বার্থ ও যানবাহন চলাচলের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, হকার পুনর্বাসনের এই নতুন কৌশল একদিকে যেমন জীবিকা নিশ্চিত করার চেষ্টা, অন্যদিকে তা নগর জীবনে নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কীভাবে সামাল দেয় এবং জনদুর্ভোগ কমাতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়।