May 20, 2026, 9:39 am
শিরোনাম:
আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা টঙ্গীতে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পবিত্র হজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গেলেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৬ অনুষ্ঠিত ইসলামের বাণী পৌঁছে দেওয়াই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: মিয়া গোলাম পরওয়ার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ফুঁসে উঠছে উত্তরবঙ্গ “আন্দোলন হয় তিস্তাপাড়ে, বাজেট যায় পদ্মাপাড়ে” — ক্ষোভে উত্তাল সাধারণ মানুষ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ: “প্রকৃত গরিবরা বঞ্চিত” ডেপুটি স্পিকার বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার ডেরেক লোহের সৌজন্য সাক্ষাৎ আহলেহাদীছ আন্দোলনকে ‘সুরূরী’ আখ্যা দেয়ার মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য মালয়েশিয়ায় নতুন উচ্চশিক্ষার দুয়ার খুলছে,

আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা

আইয়ুব আলী
শিশু রামিসা
শিশু রামিসা

আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা

আইয়ুব আলী । রংপুর
জধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড় উঠেছে। শিশুটির মরদেহ খাটের নিচ থেকে এবং বিচ্ছিন্ন মাথা একটি বাথরুমের পাশ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, পল্লবী এলাকার একটি বাসা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, রামিসা হঠাৎ নিখোঁজ হলে স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বাসার ভেতরেই খাটের নিচে তার দেহ দেখতে পান তারা। এ সময় ঘটনাস্থলের পাশের একটি বাথরুমের কাছে বিচ্ছিন্ন মাথা পড়ে থাকতে দেখা যায়। এমন ভয়াবহ দৃশ্য দেখে পরিবারের সদস্য ও আশপাশের মানুষ ভেঙে পড়েন।

নিহত রামিসা স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের মতো খেলাধুলা ও পড়াশোনা নিয়েই ব্যস্ত ছিল তার ছোট্ট জীবন। কিন্তু সেই শিশুকেই এমন নির্মম পরিণতির শিকার হতে হয়েছে, যা পুরো সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

ঘটনার পরপরই এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এমন নৃশংস ঘটনা তারা আগে কখনো দেখেননি। অনেকেই শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সমাজে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ থেকে বিরত রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অনেকে লিখেছেন, একটি শিশুও যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে সমাজের নিরাপত্তা কোথায়?

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, দেশে শিশু নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। তারা মনে করেন, শুধু আইন প্রণয়ন নয়, আইনের কার্যকর বাস্তবায়নও জরুরি। একই সঙ্গে পরিবার, সমাজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে শিশু সুরক্ষায় আরও সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার দীর্ঘসূত্রতায় আটকে গেলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তাই দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাদের ভাষায়, দৃষ্টান্তমূলক বিচারই ভবিষ্যতে এমন অপরাধ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

রামিসার পরিবারের সদস্যরা দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। পরিবারের এক সদস্য বলেন, “আমরা আমাদের সন্তানকে আর ফিরে পাব না। আমরা শুধু বিচার চাই।”

সমাজ সচেতন মহলের মতে, প্রতিটি শিশুর নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। রামিসার মতো আর কোনো শিশুকে যেন এমন নির্মম পরিণতির শিকার হতে না হয়, সেই প্রত্যাশাই এখন সবার।



ফেসবুকে আমরা