আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ ভুল তথ্যের ভিত্তিতে মন্তব্য করা হয়েছে’ — আহলেহাদীছ আন্দোলন নিয়ে প্রতিক্রিয়া
আইয়ুব আলী। রংপুর
ঢাকার মুহাম্মাদপুরস্থ আল-আমীন জামে মসজিদে আয়োজিত এক হালাকায় জর্ডানী শায়খ ড. উসামা আল-উতায়বী-এর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে এমন কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী রয়েছে যারা “সুরূরী” চিন্তাধারার প্রভাব বহন করলেও নিজেরা তা অনুধাবন করেন না। এ প্রসঙ্গে উদাহরণ হিসেবে তিনি আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ এবং এর আমীর প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব-এর নাম উল্লেখ করেন।
বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ড. আহমাদ আবদুল্লাহ ছাকীব। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের দাওয়াতি কার্যক্রম, তাওহীদ ও সুন্নাহভিত্তিক প্রচেষ্টা এবং শিরক-বিদআতবিরোধী অবস্থান দেশের ধর্মীয় অঙ্গনে সুপরিচিত। তাঁর ভাষ্যমতে, প্রফেসর ড. আসাদুল্লাহ আল-গালিব গত প্রায় ৬০ বছর ধরে কুরআন ও ছহীহ হাদীছভিত্তিক বিশুদ্ধ সালাফী মানহাজ প্রচারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইখওয়ানী চিন্তাধারা ও রাজনৈতিক ইসলামকেন্দ্রিক বিভিন্ন আক্বীদাগত বিচ্যুতির বিরুদ্ধে বহু বছর ধরেই ড. গালিবের সুস্পষ্ট অবস্থান রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তাঁর রচিত “তিনটি মতবাদ”, “ইক্বামতে দ্বীন : পথ ও পদ্ধতি” এবং “ইসলামী খেলাফত ও নেতৃত্ব নির্বাচন ব্যবস্থা” গ্রন্থের উল্লেখ করা হয়। সেখানে দলীলভিত্তিকভাবে রাজনৈতিক ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট মতবাদের বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
ড. ছাকীবের মতে, শায়খ উসামা আল-উতায়বীকে এ বিষয়ে ভুল তথ্য প্রদান করা হয়েছে। বিশেষ করে “আহলেহাদীছ আন্দোলন” নামের মধ্যে থাকা “আন্দোলন” শব্দকে রাজনৈতিক অর্থে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তিকর ধারণা দেয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। অথচ এখানে “আন্দোলন” শব্দটি সামাজিক ও দ্বীনী গণজাগরণের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে নয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিশিষ্ট আলেম আল্লামা আব্দুল্লাহিল কাফী আল-কুরায়শীও “আহলেহাদীছ আন্দোলন” নামে গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং বিভিন্ন লেখনীতে এ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছেন। তাই শুধুমাত্র নামের ভিত্তিতে কোনো সংগঠনকে নির্দিষ্ট মতবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিবৃতিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আল্লাহভীতির আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে গুরুতর আদর্শিক মন্তব্য করার আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই, বাস্তবতা পর্যালোচনা এবং ইনসাফপূর্ণ মূল্যায়ন জরুরি। অন্যথায় সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ও অনাকাঙ্ক্ষিত বিভাজনের সৃষ্টি হতে পারে।
শেষে ড. ছাকীব আশা প্রকাশ করেন, মতপার্থক্য থাকলেও আহলুস সুন্নাহর আদব, ন্যায়পরায়ণতা ও ইলমী আমানতদারিতা বজায় থাকবে। একইসঙ্গে যেকোনো অভিযোগ দলীল, বাস্তবতা ও নিরপেক্ষ গবেষণার ভিত্তিতে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।