মাহমুদুল হাসান পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে স্কুলের নতুন বই কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ৭ বছরের এক শিশুকে গভীর পুকুরে নামিয়ে দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মানসিক ভারসাম্যহীন মো. শেখ সাদী শাহকে (৭৫) আটক করেছে পুলিশ।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পার্বতীপুর উপজেলার ১০ নং হরিরামপুর ইউনিয়নের লক্ষী হোসেনপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুর নাম রাফিউল ইসলাম (৭)। সে পার্বতীপুর উপজেলার লক্ষী হোসেনপুর গ্রামের মো. রবিউল ইসলাম ও মোছা. আজমিরা খাতুন দম্পতির ছেলে। অন্যদিকে আটক অভিযুক্ত শেখ সাদী শাহ একই গ্রামের মৃত শমসের আলী শাহর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন গত ২৭ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে অভিযুক্ত শেখ সাদী শাহ রাফিউল ইসলামকে স্কুলের নতুন বই কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে গ্রামের আশপাশে ঘুরাতে থাকেন। বইয়ের লোভে শিশুটিও তার সঙ্গে ঘুরতে থাকে।
পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গ্রামের উত্তর পাশের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে শেখ সাদী শিশুটিকে বলেন যে, পুকুরের মাছ হাসে খাচ্ছে। এরপর তিনি শিশুটির পরনের জামাকাপড় খুলে তাকে পুকুরে নামিয়ে দেন। শিশুটি নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই পানিতে তলিয়ে যায়। স্থানীয়দের তথ্যমতে, ওই পুকুর থেকে বালু উত্তোলন করায় এর গভীরতা ৭ থেকে ৮ ফুটের মতো ছিল।
ঘটনার সময় পুকুরের অপর পাড়ে থাকা মোছা. আশরাফুন বেগম (৪৫) শিশুটিকে পানিতে নামতে দেখে শেখ সাদীকে চিৎকার করে জানান যে শিশুটি সাঁতার জানে না, পানিতে ডুবে মারা যাবে। জবাবে শেখ সাদী তাকে চুপ থাকতে বলেন এবং শিশুটি সাঁতার জানে বলে দাবি করেন।
ওই নারী সাঁতার না জানার কারণে দ্রুত আশপাশের লোকজনকে ডেকে আনেন। স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারের জন্য পুকুরে নামলেও ততক্ষণে শিশুটি পানিতে ডুবে মারা যায়। পরে স্থানীয় লোকজন দুপুর ১টার দিকে পুকুর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন।
সংবাদ পেয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মো. মাসউদ আলম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটির সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেন। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির মরদেহ দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে পার্বতীপুর থানার পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন মো. শেখ সাদী শাহকে আটক করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।