May 19, 2026, 6:30 pm
শিরোনাম:
ইসলামের বাণী পৌঁছে দেওয়াই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: মিয়া গোলাম পরওয়ার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ফুঁসে উঠছে উত্তরবঙ্গ “আন্দোলন হয় তিস্তাপাড়ে, বাজেট যায় পদ্মাপাড়ে” — ক্ষোভে উত্তাল সাধারণ মানুষ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ: “প্রকৃত গরিবরা বঞ্চিত” ডেপুটি স্পিকার বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার ডেরেক লোহের সৌজন্য সাক্ষাৎ আহলেহাদীছ আন্দোলনকে ‘সুরূরী’ আখ্যা দেয়ার মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য মালয়েশিয়ায় নতুন উচ্চশিক্ষার দুয়ার খুলছে, জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা কোথায়? বিশ্বকাপ ফুটবল ২৬ এর থিম সং ‘দাই দাই’, গেয়েছেন পপতারকা শাকিরা ও বার্না বয় বাউফলে খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করলেন এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ আন্দোলন হয় তিস্তাপাড়ে, বাজেট চলে যায় পদ্মাপাড়ে” — উত্তরের মানুষের ক্ষোভ

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ফুঁসে উঠছে উত্তরবঙ্গ “আন্দোলন হয় তিস্তাপাড়ে, বাজেট যায় পদ্মাপাড়ে” — ক্ষোভে উত্তাল সাধারণ মানুষ

সৌরভ উজ্জামান,ঢাকা

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ফুঁসে উঠছে উত্তরবঙ্গ

“আন্দোলন হয় তিস্তাপাড়ে, বাজেট যায় পদ্মাপাড়ে” — ক্ষোভে উত্তাল সাধারণ মানুষ

সৌরভ উজ্জামান,

উত্তরাঞ্চলের মানুষের বহুদিনের স্বপ্ন তিস্তা মহাপরিকল্পনা। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে শুধু আশ্বাস আর আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে এই প্রকল্প। বাস্তবায়নের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় এবার ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তিস্তাপাড়ের মানুষ। সাধারণ জনগণ স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা না এলে পুরো উত্তরবঙ্গ অচল করে দেওয়ার মতো কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন তারা।

গেল কয়েকদিন আগে একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে আসে বহুল আলোচিত একটি বক্তব্য— “আন্দোলন হয় তিস্তাপাড়ে, কিন্তু বাজেট চলে যায় পদ্মাপাড়ে।” এই একটি বাক্য যেন উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভকে নতুন করে উসকে দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে হাট-বাজার, চায়ের দোকান, এমনকি কৃষকের মাঠেও এখন একটাই আলোচনা— কেন বারবার বঞ্চিত হবে উত্তরবঙ্গ?

তিস্তাপাড়ের মানুষের অভিযোগ, দেশের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ হলেও উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে জড়িত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বছরের পর বছর ধরে ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে আছে। অথচ প্রতি বছর খরা, নদীভাঙন, আকস্মিক বন্যা এবং পানির সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এই অঞ্চলের লাখো মানুষ।

লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধাসহ তিস্তাপাড়ের বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদী প্রায় মরুভূমিতে পরিণত হয়। নদীতে পানি না থাকায় কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। অন্যদিকে বর্ষা এলেই ভয়াবহ ভাঙন ও বন্যা দেখা দেয়। অনেক পরিবার প্রতিবছর ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করে।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “আমরা শুধু শুনি পরিকল্পনা হবে, কাজ হবে। কিন্তু বাস্তবে কিছুই দেখি না। উত্তরবঙ্গের মানুষ কি এই দেশের নাগরিক না? আমাদের কষ্ট কেউ দেখে না।”

একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তারা বলছেন, দেশের উন্নয়নের গল্পে উত্তরাঞ্চলের বাস্তব চিত্র অনেকটাই আড়ালে পড়ে গেছে। কর্মসংস্থান কম, শিল্পকারখানা নেই বললেই চলে, তার ওপর কৃষিনির্ভর মানুষ পানির সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে শুধু নদীশাসনই নয়, উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতেও বড় পরিবর্তন আসবে। কৃষি উৎপাদন বাড়বে, বন্যা নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে নদীভাঙনের ভয় থেকেও অনেক পরিবার মুক্তি পাবে।

তবে দীর্ঘসূত্রতা ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাইরে বাস্তব কাজ না হওয়ায় মানুষের ধৈর্য এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ইতোমধ্যে আন্দোলনের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানানো হলেও যদি সরকার কার্যকর সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

স্থানীয় আন্দোলনকারীরা বলছেন, “আমরা আর আশ্বাস চাই না, বাস্তবায়ন চাই। তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুধু একটি প্রকল্প নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের বাঁচা-মরার প্রশ্ন।”

এদিকে সাধারণ মানুষের এমন কঠোর অবস্থানের কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্তরবঙ্গের মানুষের এই ক্ষোভ দীর্ঘদিনের বঞ্চনা থেকে তৈরি হয়েছে। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে।

তিস্তাপাড়ের মানুষের একটাই দাবি— দেশের উন্নয়নের স্রোতে উত্তরাঞ্চলকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমেই এই অঞ্চলের মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।



ফেসবুকে আমরা